
বেঙ্গালুরুতে সম্প্রতি চালু হয়েছে একটি অভিনব ও সময়োপযোগী ওয়েবসাইট, যা মানসিক অবসাদে ভোগা মানুষের জন্য এক নতুন আশার দিশা দেখাচ্ছে। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা এখন চাইলে অনলাইনের মাধ্যমেই একজন সহানুভূতিশীল সঙ্গীর খোঁজ পেতে পারেন, যাঁর সঙ্গে মন খুলে কথা বলা যাবে।
বর্তমান সময়ে মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব ক্রমশই বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রায় ২৭ কোটি মানুষ কোনও না কোনও ধরনের মানসিক উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগছেন। অবসাদ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, অজানা ভয়, কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, সামাজিক মেলামেশা এড়িয়ে চলা—এই সমস্তই মানসিক অসুস্থতার সাধারণ লক্ষণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলিত হলে তা থেকে হৃদ্রোগ, ডায়াবিটিস কিংবা হরমোনজনিত নানা জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
মানসিক অবসাদকে অনেক সময়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি অনেক ক্ষেত্রেই নিজেই বুঝে উঠতে পারেন না যে তিনি অবসাদে ভুগছেন। বুঝতে বুঝতেই অনেক সময় পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। মানসিক অবসাদে আক্রান্ত বহু মানুষ সমাজের চোখে ‘দুর্বল’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ভয়ে নিজের সমস্যার কথা চেপে রাখেন। ফলে মনের ভেতরে জমতে থাকে চাপ, যা ধীরে ধীরে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। দীর্ঘদিনের গৃহবন্দিত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, কাজের অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে শহুরে জীবনে একাকিত্ব এবং মানসিক চাপ বেড়েছে বহুগুণ।
এই বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই বেঙ্গালুরুতে চালু হয়েছে এই নতুন ওয়েবসাইট। তবে এটি কোনও ডেটিং বা জীবনসঙ্গী খোঁজার প্ল্যাটফর্ম নয়। এখানে ‘সঙ্গী’ বলতে বোঝানো হচ্ছে একজন বন্ধুর মতো মানুষকে যাঁর সঙ্গে নিজের সুখ-দুঃখ, ভয়, হতাশা কিংবা দৈনন্দিন চাপের কথা মন খুলে বলা যায়। অনলাইনের মাধ্যমে এই বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে মানসিক ভার লাঘব করার সুযোগ দেওয়াই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্যোক্তাদের দাবি, অনেক সময় শুধু কাউকে মন খুলে নিজের কথা বলার সুযোগ পেলেই মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। এই ওয়েবসাইট সেই নিরাপদ পরিসর তৈরি করতেই উদ্যোগী হয়েছে, যেখানে কোনও বিচার বা সমালোচনার ভয় ছাড়াই মানুষ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবেন।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি একাকিত্বে ভোগা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



