নরেন্দ্রপুরে জাল নোট তৈরির কারখানার সন্ধান, এসটিএফের হানায় গ্রেফতার ৩ – উদ্ধার বিপুল পরিমাণ জাল নোট
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

কলকাতার উপকণ্ঠে নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত সোনারপুরের রাজপুর এলাকায় জাল নোট তৈরির একটি রমরমিয়ে চলা কারখানার সন্ধান পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। রামকৃষ্ণ পল্লীর তেঘরিয়া দশনি পাড়ায় একটি বাড়ির একতলায় ঘর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল এই ভুয়ো নোট তৈরির চক্র।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ হানা দিলে সেখান থেকে তিনটি কালার স্ক্যানার-প্রিন্টার বাজেয়াপ্ত করা হয়। পাশাপাশি ১০০ টাকার নকল নোট তৈরির দুটি প্রিন্টেড পেজ ও তিনটি সাদা পেজ উদ্ধার হয়। শুধু তাই নয়, ৫০০ টাকার নোট তৈরির পেজ, ২০০ টাকার জাল নোটের পাতা এবং ৫০ টাকার নোট তৈরির একাধিক পাতা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এই সব পেজ ব্যবহার করেই আসল নোটের মতো দেখতে জাল টাকা ছাপানো হত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে এসটিএফ মোট ৮৪টি জাল ১০০ টাকার নোট, ১৪টি জাল ২০০ টাকার নোট এবং ৮টি জাল ৫০০ টাকার নোট উদ্ধার করে। এর পাশাপাশি ১০০, ২০০ ও ৫০ টাকার জাল নোটের একাধিক কপি, সবুজ রঙের নটি জিলেটিন পেন এবং নগদ ২২ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এই চক্র চালানো ও জাল নোট কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। ধৃতরা হল অলোক নাগ, অয়ন নাগ এবং শ্যামবাবু পাসওয়ান। অলোক নাগ ও অয়ন নাগের বাড়ি নরেন্দ্রপুর থানার সোনারপুর এলাকায়। অন্যদিকে শ্যামবাবু পাসওয়ানের বাড়ি খড়দা থানার টিটাগড়ে।
ধৃতদের কাছ থেকে মোট ৯,২০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০০ টাকার ১৪টি নোট, ২০০ টাকার ১০টি নোট এবং ১০০ টাকার ২টি নোট। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে আদালত তাদের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এসটিএফ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।
এই জাল নোটের চক্র কতদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে এসটিএফ। পুলিশের ধারণা, এই চক্রের জাল আরও গভীরে বিস্তৃত হতে পারে।



