
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সমস্যার পরিমাণ আরও বেড়েছে। এবার শুনানির ক্ষেত্রে নথি হিসেবে আর গ্রহণযোগ্য থাকছে না মাধ্যমিক বা সমতুল দশম শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড। বৃহস্পতিবার এই মর্মে নতুন করে ‘ফতোয়া’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। দিল্লি থেকে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার মনোজ আগরওয়ালের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছিল, যাতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় রাখা হয়। ইতিমধ্যেই বহু ভোটার শুনানিতে হাজির হয়ে মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির অ্যাডমিট কার্ডকেই পরিচয় সংক্রান্ত প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছেন। ফলে নতুন নির্দেশিকায় তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে, আবার নতুন করে নথি জমা দিতে হবে কি না এই প্রশ্ন ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে, কারণ ওই বছরই শেষবার নিবিড় সংশোধনের কাজ হয়েছিল। আগামী ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাংলা-সহ মোট ১২টি রাজ্যে একই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এসআইআর শুনানিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করে নাম তোলার আবেদন জানাতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় থাকা যে কোনও অসঙ্গতি বা ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রেও প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য কমিশন নির্দিষ্ট করে মোট ১৩টি নথির কথা জানিয়েছিল। সেই তালিকায় মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডের উল্লেখ ছিল না। তবে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বহু ক্ষেত্রে এই নথি গ্রহণযোগ্য হওয়ায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছিল। বিভিন্ন স্তরে সেই আবেদন ওঠায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত এই নথি গ্রাহ্য হবে। সেই ধারণার ভিত্তিতেই বিএলও-রা শুনানিতে ডাকা ভোটারদের কাছ থেকে মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করেছেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড আর নথি হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে এতদিন ধরে এই নথি গ্রহণ করার পর হঠাৎ করে কেন তা বাতিল করা হল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ভোটাররা।



