হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে তোলপাড়, অবশেষে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

টেলিভিশনের ধারাবাহিককেও হার মানাতে পারে বিজেপির তারকা বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ের কাহিনি। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি এমন অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। আইনজ্ঞ মহলের মতে, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫ অনুযায়ী এই ধরনের বিবাহ আইনত অপরাধ এবং এর জন্য কারাদণ্ডের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
হিরণের এই দ্বিতীয় দাম্পত্য অধ্যায় আপাতত বিনোদন জগতের গসিপ ছাপিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তাঁর প্রথম পক্ষের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য। ফলে প্রশ্ন উঠছে – এই ইস্যুতে বিজেপির অবস্থানই বা কী?
খড়্গপুরে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের নেপথ্যে যে দিলীপ ঘোষের বড় ভূমিকা ছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষের হাত ধরেই বিজেপির হয়ে বাজিমাত করেছিলেন টলিপাড়ার ‘মাচো মস্তানা’। সেই কারণে হিরণের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে দিলীপ ঘোষ কী বলেন, সেদিকেই তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল।
অবশেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, “কে কাকে বিয়ে করবে, কীভাবে জীবনযাপন করবে, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।” এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে কোনও রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে নারাজ বিজেপির এই প্রবীণ নেতা।
এদিকে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল ও মিমের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। কেউ হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, কেউ আবার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে অন্ধকারে রেখে দ্বিতীয়বার সাতপাকে বাঁধা পড়া নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি বিধায়ককে।
সব মিলিয়ে, হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে এখন আর নিছক ব্যক্তিগত বিষয় নয় তা রীতিমতো রাজ্য রাজনীতির আলোচনার টেবিলে ‘টক অফ দ্য মোমেন্ট’।



