দ্বিতীয় বিয়ের পর সম্পত্তি বিতর্ক? হিরণের দুই স্ত্রীর পালটা অভিযোগে তুঙ্গে চাপানউতোর
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন না করেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করার অভিযোগে বুধবার রাতেই বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। এই ঘটনার মাঝেই প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরি। তিনি দাবি করেন, “৫ বছর ধরে হিরণের সঙ্গে আছি। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা তো সবই জানত।” এই বক্তব্য সামনে আসতেই নানা প্রশ্ন ওঠে—সব জেনেও কেন এতদিন চুপ ছিলেন অনিন্দিতা, বা কেন আইনি পথে সম্পর্কের ইতি টানেননি তিনি? সেই প্রশ্নেরই ব্যাখ্যা দিলেন প্রথম স্ত্রী নিজেই।
সংবাদমাধ্যমের কাছে অনিন্দিতা জানান, “আর্থিকভাবে আমি হিরণের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। নিজেও সেরকম রোজগার করতাম না। পুলিশে অভিযোগ দায়েরের সময়েও এই বিষয়টা আমি জানিয়েছি। আর্থিক দিকটা নিয়েই আশঙ্কায় ভুগছিলাম। তবে হিরণ-ঋতিকার সম্পর্কের বিষয়টা নিয়ে যখন প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমি হিরণের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে মেসেজে জানিয়েছিল- ‘কিছুটা সময় দাও।’ তারপর আর ওর দেখা করার সময় হয়নি, আর বাকিটা তো এখন সকলেই জানেন!” এই প্রসঙ্গের পরেই তিনি হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকার বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
খড়্গপুরের বিধায়কের প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ, “যা বুঝলাম, টাকা দিয়েই সবটা সম্ভব। এই বাচ্চা মেয়েটা হিরণের পিছনে ঘুরছে। আজ ভিয়েতনাম, কাল ব্যাংকক যাচ্ছে। ও তো এই জীবনযাত্রাতে অভ্যস্তই নয়। খুবই সাধারণ বাড়ির মেয়ে। ঋতিকার বাবা হয়তো পাঁচ হাজার টাকা উপার্জন করেন! আর আমি একটা সংসার করছিলাম। আমাদের মেয়েও রয়েছে। অন্তত ওর ভবিষ্যতের দিকটা তো আমাকে ভাবতেই হবে। মেয়েকে যেন সবকিছু গুছিয়ে দিতে পারি, সেটাই চেয়েছিলাম। শুনেছি, মেয়েটি হিরণের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেইলস চেয়েছে। সব নিয়ে চলে যাবে তা তো হয় না! আমাকে আমার মেয়ের দিকটা ভাবতেই হবে।” থানায় এফআইআর দায়েরের পর অনিন্দিতার এই মন্তব্যে জল্পনা আরও বেড়েছে দ্বিতীয় বিয়ের পর কি হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তি ঘিরে দুই স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এল?
অন্যদিকে, ঋতিকা গিরিও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “প্রথম পক্ষের স্ত্রী অনিন্দিতার যে বিবৃতিগুলি আমি শুনেছি, তার কিছু বিষয় স্পষ্ট করা খুবই দরকার বলে মনে আমি করি। প্রথমত, আমার বয়স সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ওনাকে ডিভোর্সের আইনি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, এই বিয়ে আমরা অনেক আগেই করেছি। পাঁচ বছর ধরে আমরা একসঙ্গে আছি। এবং এইসব বিষয়ে অনিন্দিতা জানত। আমার সব অ্যাকাউন্টও পাবলিক করা ছিল। কোনও কিছুই লুকনো ছিল না। তাহলে এত বছর তিনি কোথায় ছিলেন? এবং কেন তখন কোনও প্রশ্ন তোলেননি?”



