রাজনীতিরাজ্য

নন্দীগ্রামে সমবায় ভোটে তৃণমূলের জয়, পাল্টা বিভাজনের রাজনীতি শুভেন্দুর

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Suvendu Adhikari : নন্দীগ্রামে সমবায় ভোটে তৃণমূলের জয়, পাল্টা বিভাজনের রাজনীতি শুভেন্দুর - West Bengal News 24

নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় মডেলের সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই সমবায় ভোটেও শাসকদলের বড় জয়। টানা এই সাফল্যের পরই এলাকায় বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ উঠল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। সোমবার নন্দীগ্রামে গিয়ে হিন্দুদের একতার ডাক দিয়ে তিনি যে বক্তব্য রাখেন, তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তাঁর মন্তব্য, ”এখানকার জিহাদি-মৌলবাদীদের একদম আলাদা করে দাও।” রানিচক সমবায় ভোটের ফল প্রকাশের পর বিজেপির ভরাডুবি এবং তৃণমূলের বিপুল জয়ের প্রেক্ষাপটে শুভেন্দুর এই অবস্থানকে ‘চাপে পড়ে দেওয়া প্রতিক্রিয়া’ বলেই মনে করছেন অনেকেই।

রবিবার রানিচক সমবায় সমিতির ফল ঘোষণায় দেখা যায়, মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে ২৮টিতেই জয় পেয়েছে তৃণমূল। বিজেপি কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ফল প্রকাশের রাতেই বিজেপি সমর্থকদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে, যা ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সোমবার সকালে নন্দীগ্রামে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি হিন্দুদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান এবং একাধিক নির্দেশ দেন। তাঁর কথায়, “সব হিন্দু ঘরে ধ্বজ লাগাতে হবে কাল সকালের মধ্যে। এখানকার জিহাদি-মৌলবাদীদের একদম আলাদা করে দাও। সমস্ত জায়গায় সিসিটিভি লাগাও। কলকাতা থেকে ভাল ক্যামেরা নিয়ে এসো। যত টাকা লাগে আমি দেব। সব সিসিটিভির নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমার এমএলএ অফিসে। সব মন্দিরে মাইক লাগাও। শাঁখ বিতরণ করো গোটা গ্রামে।”

সমবায় ভোটে জয়ের পর নন্দীগ্রামে নতুন করে চাঙ্গা হয়েছে তৃণমূল শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নন্দীগ্রামে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় মডেল। সেবাশ্রয় শিবিরের পরই রানিচক সমবায় সমিতির ভোটে জয় এসেছে শাসকদলের ঝুলিতে, আর শুভেন্দুর নিজের ঘাঁটিতেই পিছিয়ে পড়েছে বিজেপি।

এর মধ্যেই বীরভূম মডেলের আদলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও তৃণমূলের কোর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার জন্য নতুন করে রণকৌশল সাজাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। আর সেই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতার পাল্টা কৌশল হিসেবেই বিভাজনের রাজনীতিকে সামনে আনার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য