ফেসবুক-এক্স ব্যবহারে রাশ, সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা বিহার সরকারের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সরকারি কর্মীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল বিহার সরকার। এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তার ব্যাখ্যার পাশাপাশি ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো সমাজমাধ্যম ব্যবহারে কোন কোন নিয়ম মানতে হবে, তাও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, সমাজমাধ্যম ব্যবহারের নতুন নিয়মে মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে। এখন শুধু তা কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা। এই নির্দেশিকা যেমন নিচু স্তরের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনই ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদেরও একই নিয়ম মানতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে কর্মীদের আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি নিতে হবে। ভুয়ো বা বেনামে অ্যাকাউন্ট খোলার উপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত কোনও পোস্ট করার সময় কর্মীরা তাঁদের পদমর্যাদা বা কোন পদে কর্মরত, তা উল্লেখ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে সরকারের লোগো বা সরকারি প্রতীক ব্যবহারেরও অনুমতি নেই। সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত পোস্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে অফিসিয়াল ই-মেল আইডি বা সরকারি ফোন নম্বর ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের ব্যাখ্যা, সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের অধিকার থাকলেও, একজন সরকারি কর্মীর মতামত এবং তাঁর ব্যক্তিগত মতের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
কোন ধরনের পোস্ট করা যাবে না, তাও নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। অশ্লীল, উস্কানিমূলক, আপত্তিজনক বা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এমন কোনও লেখা বা ছবি পোস্ট করা নিষিদ্ধ। কোনও জাত, ধর্ম বা সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে পোস্ট করা যাবে না। সরকারি বৈঠক বা অনুষ্ঠানের ছবি-ভিডিয়ো, বিশেষ করে সংবেদনশীল বা গোপন তথ্য শেয়ার করাও নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে সরকারের কোনও বিষয় সমাজমাধ্যমে পোস্ট হলে, তাতে মন্তব্য করা যাবে না। সরকারি অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রকাশ থেকেও বিরত থাকতে হবে কর্মীদের।
এ ছাড়াও, সরকারি নীতির সমালোচনা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আক্রমণ করে পোস্ট, কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ কিংবা যৌন হেনস্থার শিকার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সব নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
তবে সরকারের দাবি, সমাজমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করাই এই নীতির লক্ষ্য নয়। বরং এই নির্দেশিকার মাধ্যমে সমাজমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি কর্মীদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মমর্যাদা বজায় রাখাই মূল উদ্দেশ্য।



