জাতীয়

লাদাখ ইস্যুতে উত্তাল সংসদ, রাহুলের ভাষণ থামানোর অভিযোগ, স্পিকারের দিকে কাগজ ছোড়ায় সাসপেন্ড ৮ কংগ্রেস সাংসদ

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

লাদাখ ইস্যুতে উত্তাল সংসদ, রাহুলের ভাষণ থামানোর অভিযোগ, স্পিকারের দিকে কাগজ ছোড়ায় সাসপেন্ড ৮ কংগ্রেস সাংসদ - West Bengal News 24

লাদাখে চিনা আগ্রাসনের প্রশ্নে ফের অগ্নিগর্ভ সংসদ। মঙ্গলবার লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাসক দল বিজেপি ও লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই সংসদের ভিতরে প্রতিবাদে সরব হন বিরোধী সাংসদরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, অভব্য আচরণ ও স্পিকারের দিকে কাগজ ছোড়ার অভিযোগে আট জন কংগ্রেস সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়।

বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেও লাদাখ প্রসঙ্গ তোলেন রাহুল। সোমবারের মতো মঙ্গলবারও তিনি দাবি করেন, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের আগেই ধারাবাহিকভাবে চিনের কাছে জমি হারিয়েছে ভারত, অথচ সরকার সে বিষয়ে নীরব থেকেছে। নিজের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী থেকে উদ্ধৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। ঠিক সেই সময়েই হট্টগোল শুরু করেন বিজেপি সাংসদরা। অভিযোগ, শাসক শিবিরের আপত্তির মধ্যেই লোকসভার স্পিকার মাঝপথে রাহুলের ভাষণ থামিয়ে দেন। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের সাংসদরা। তার পরেই স্পিকারের দিকে কাগজ ছোড়ার অভিযোগ ওঠে এবং আট জন কংগ্রেস সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয় বলে খবর।

সাসপেন্ড হওয়া এক কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “রাহুলের ভাষণে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি নথিটি যাচাই করেই সংসদে জমা দিয়েছিলেন। আমরা এর প্রতিবাদ করেছিলাম। এটা অপরাধ?”
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের পালটা অভিযোগ, “রাহুল গণতন্ত্র এবং সংসদকে অপমান করেছেন। তাঁর একটাই উদ্দেশ্য ছিল। ভারতীয় জওয়ানদের অপমান করা। এটাই এখন কংগ্রেসের এজেন্ডা। তারা কাগজ ছিঁড়ে ফেলে স্পিকারের দিকে ছুড়েছেন।”

উল্লেখ্য, সোমবারও লাদাখ ইস্যুতে একই রকম উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সংসদে। নিজের বক্তব্যের পক্ষে রাহুল প্রথমেই প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী থেকে উদ্ধৃতি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, “জেনারেল নারাভানে বলছেন, কৈলাশ রেঞ্জে চিনা সেনা ভারতের অবস্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল…।”
এই বক্তব্যের পরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তীব্র আপত্তি জানান। শাসক ও বিরোধী বেঞ্চের মধ্যে শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি। রাজনাথ সিংয়ের দাবি ছিল, যে বই এখনও প্রকাশিত হয়নি, সংসদে তার থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যায় না। রাহুলের যুক্তি ছিল, যে সূত্র থেকে তিনি বইটি পেয়েছেন, তা সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য। এর জবাবে রাজনাথ প্রশ্ন তোলেন, “বইটি কি প্রকাশিত হয়েছে? অপ্রকাশিত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা যায় না।”

পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন লোকসভার স্পিকার। তিনি রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যকেই সমর্থন করে বলেন, “এই সদনে কোনওরকভাবে কোনও সংবাদ, বা বই নিয়ে আলোচনা হয় না। আর যে বই প্রকাশিত হয়নি সেটা নিয়ে বলার অনুমতি দেওয়া যায় না।” ফলে রাহুল যে বিষয়টি তুলতে চাইছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত চাপা পড়ে যায়। মঙ্গলবারও কার্যত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেল সংসদে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য