বৈভবের ঝড়, অ্যারনের শতকে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বিরাট কোহলি, শুভমান গিলদের পথ ধরেই কি এবার বৈভব সূর্যবংশীদের হাত ধরে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ঘরে তুলবে ভারত? সেই স্বপ্ন আরও জোরালো করেই ফাইনালে পৌঁছে গেল টিম ইন্ডিয়া। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দাপট দেখিয়েছে ভারতীয় যুব দল। সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আফগানিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত। ফাইনালে এবার আয়ুষ মাত্রেদের সামনে চ্যালেঞ্জ ইংল্যান্ড।
অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিয়ে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। কারণ, গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজিত ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল আফগানিস্তান, যারা একটি ম্যাচ ছাড়া সব ক’টিতেই জয়ের মুখ দেখেছে। দুই শক্তিশালী দলের দ্বৈরথ হলেও মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়নি। প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান তোলে ৩১০ রান। কিন্তু সেই লক্ষ্যও অনায়াসেই তাড়া করে নেয় ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ ব্রিগেড। ষষ্ঠবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ এখন হাতের নাগালেই।
চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটিও ম্যাচ হারেনি ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দল। অধিকাংশ ম্যাচেই আয়ুষ মাত্রেরা দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নিয়েছেন। তবে সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারতীয় বোলিং আক্রমণ। বুধবার টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। শুরুটা যদিও খুব একটা গতিময় ছিল না। ওপেনার ওসমান সাদাত ও খালিদ আহমেদজাই পাওয়ার প্লে-তে তুলতে পারেন মাত্র ৪২ রান। খালিদের উইকেট পড়ার পরই ইনিংসের মোড় ঘুরে যায়। ফয়সল শিনোজাদা নেমে ৯৩ বলে ঝকঝকে ১১০ রান করেন। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে উজাইরুল্লা নিয়াজাই ৮৬ বলে ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই দুই ব্যাটারের শতরানের জোরেই আফগানিস্তান পৌঁছয় ৩১০ রানে। ভারতীয় বোলাররা কেউই বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেননি।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন বৈভব সূর্যবংশী ও অ্যারন জর্জ। বৈভব মাত্র ৩৩ বলে ৬৮ রান করে স্পষ্ট করে দেন, কীভাবে রান তাড়া করা হবে। দ্রুত ম্যাচ শেষ করে ফাইনাল নিশ্চিত করার মানসিকতাই ফুটে ওঠে গোটা ভারতীয় শিবিরে। অধিনায়ক আয়ুষ ৫৯ বলে ৬৮ রান করে দলের ভিত মজবুত করেন। একদিকে উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে নিজের শতরান পূরণ করেন অ্যারন। শেষের দিকে ভারতের রানের গতি কিছুটা কমলেও আফগান বোলারদের প্রত্যাবর্তন কাজে আসেনি। বৈভবের বিধ্বংসী ইনিংস ও অ্যারনের সেঞ্চুরিতে ভর করেই সহজ জয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় ভারত।



