রাজনীতিরাজ্য

সিপিএমের সঙ্গে জোট নয়, একাই লড়বে কংগ্রেস! প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলায় সিদ্ধান্ত খড়্গে–রাহুল শিবিরের

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সিপিএমের সঙ্গে জোট নয়, একাই লড়বে কংগ্রেস! প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলায় সিদ্ধান্ত খড়্গে–রাহুল শিবিরের - West Bengal News 24

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে একক ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে এআইসিসির তরফে। ওই দিনই নয়াদিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

নয়াদিল্লির ১০, রাজাজি মার্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে-র সরকারি বাসভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন খড়্গে ছাড়াও প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মীর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী এবং সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। রাজ্যের কয়েক জন নেতা ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন বলেও জানা গিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ নেতাই একক ভাবে লড়াইয়ের পক্ষে মত দেন। এআইসিসি সূত্রের খবর, সেখানে অধীর চৌধুরী বামেদের সঙ্গে জোটের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল। যদিও ২০২১ সালে মেরুকরণে ভর করে হওয়া নির্বাচনে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস দু’দলই শূন্যে নেমে যায়। তবে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে বামেদের সমর্থন নিয়ে কংগ্রেস জয় পেয়েছিল।

বৈঠক শেষে গুলাম আহমেদ মীর জানান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, “সকলের সঙ্গে আলোচনা করার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে একক ভাবেই ২৯৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি শুরু হবে।” তিনি আরও বলেন, ‘‘অতীতে জোট রাজনীতির কারণে রাজ্যে কংগ্রেসকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।’’ তাঁর দাবি, বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে লড়াইয়ের ফলে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এ বার একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত।

বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ঘনিষ্ঠ মহলে অধীর চৌধুরীর মন্তব্য, ‘‘এআইসিসি যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে নিতে হবে।’’

উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট জোটবদ্ধ ভাবে লড়াই করেছিল। কিন্তু ফলাফল কংগ্রেসের পক্ষে ছিল হতাশাজনক একটিও আসন জেতা সম্ভব হয়নি। বামফ্রন্ট শূন্যে নেমে গেলেও ভাঙড়ে একমাত্র জয় পান নওশাদ সিদ্দিকী। সেই ফল রাজ্যে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, এ বার তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে নিজেদের তুলে ধরাই লক্ষ্য। জেলা স্তরে সংগঠন মজবুত করা, নতুন মুখ সামনে আনা এবং কর্মীদের মনোবল ফেরানো এই তিনটি বিষয়েই এখন জোর দিচ্ছে দল। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে কংগ্রেসের একক লড়াইয়ের ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। এখন দেখার, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই কৌশল কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য