শুনানিতে অনুপস্থিত চার লক্ষেরও বেশি! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে কারণ জানিয়ে বাড়িতে নোটিস পাঠাবে কমিশন
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

শুনানিতে অংশ না নেওয়া ভোটারদের ঠিকানায় নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ ভোটার শুনানিতে গরহাজির রয়েছেন। ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ গেলে, কেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করেই নোটিস পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
শনিবার রাজ্যে ভোটারদের এসআইআর শুনানির নির্ধারিত শেষ দিন। তবে এখনও কয়েকটি এলাকায় শুনানির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে শুনানি বাকি রয়েছে, নাম-সহ সেই তালিকা জেলাশাসকদের কাছে চেয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। সিইও দফতর সূত্রে খবর, ওই তথ্য হাতে এলে শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে শনিবারই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবেন সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল।
কমিশন সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি এলাকায় এখনও শুনানি শেষ হয়নি। বাকি বিধানসভাগুলিতে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এখনও সমস্ত তথ্য আপলোডের কাজ শেষ হয়নি। শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পর ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ তথ্য আপলোড করা হয়েছে। উত্তর কলকাতা, মালদহ, কার্শিয়াং এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকায় শুনানি এখনও অসম্পূর্ণ। সিইও দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র বিধানসভাভিত্তিক নামের তালিকাই পাঠানো হবে। বর্তমানে প্রায় চার লক্ষ ভোটার শুনানিতে অনুপস্থিত থাকলেও, সম্পূর্ণ তথ্য এলে এই সংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। শুনানির মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের শেষ দিন ৭ ফেব্রুয়ারি। নতুন করে আর কাউকে শুনানির নোটিস দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যাঁদের তলব করার ছিল, তাঁদের সকলকেই তলব করা হয়েছে। এখন মূলত নথি যাচাইয়ের কাজই বাকি রয়েছে।
গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যে এসআইআর শুনানি শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতিতে চললেও, পরে আধিকারিক ও শুনানিকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়। তার ফলে দৈনিক শুনানির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। শুরুতে নথি সংক্রান্ত কড়াকড়ি থাকলেও, পরে সেই নিয়মে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়। গত কয়েক দিনে রাজ্যে প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়েছে, যার ফলে কাজ অনেকটাই এগিয়েছে।
৭ ফেব্রুয়ারি শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হলে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে কমিশনের আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তার পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে।



