
১৪ তারিখে নয়, এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় পিছোল। স্ক্রুটিনির জন্য অতিরিক্ত ৭ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইআরও ও এইআরও-ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, মাইক্রো অবজার্ভারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও ক্ষমতা নেই। পাশাপাশি এসআইআর সংক্রান্ত নথি নষ্ট ও অশান্তির ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে শোকজ করল শীর্ষ আদালত।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের টানাপড়েন চলছিল। ধীরে ধীরে তা সংঘাতের রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে রাজ্য, কমিশন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, হিয়ারিং শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি এবং তার পরের ৭ দিন অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্ক্রুটিনি। এরপরই প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত তালিকা।
এর আগে বুধবারের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “শুধুমাত্র বাংলার জন্য মাইক্রো অবর্জাভার নিয়োগ করা হচ্ছে। বিজেপির লোকজনকে মাইক্রো অবজার্ভার করে পাঠাচ্ছে। তারা নাম ডিলিট করছে।” এই অভিযোগের জবাবে কমিশনের আইনজীবী জানান, “এসডিএম পদমর্যাদার অফিসার চেয়েও পাইনি, তাই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছে। আমরা আইন মেনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছি।” পালটা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের যা সংখ্যা সেই হিসেবেই এসডিএম দিয়েছি।”
সোমবারের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আদালতকে জানান, রাজ্যের তরফে ৮৫০০ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং আগামীকালের মধ্যে বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, এসআইআর চলাকালীন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের। কিন্তু এসআইআরকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি, বিডিও অফিস ভাঙচুর ও নথি নষ্টের অভিযোগ উঠলেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। সেই কারণেই এবার রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁকে জবাব দিতে হবে।



