‘মবের মুলুক’ অধ্যায় পেরিয়ে এবার দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ! বিপুল জয়ের পর মোদিকে ‘ধন্যবাদ’ বিএনপির
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভারত-বিরোধী আবহ, মৌলবাদের উত্থান এবং পাকিস্তানের প্রভাবের অভিযোগের পর বাংলাদেশ কি আবার গণতন্ত্রের মূল স্রোতে ফিরতে চলেছে? একই সঙ্গে কি নতুন করে উষ্ণ হতে পারে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক? সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর এমনই বার্তা সামনে আনল বাংলাদেশের শাসকদল বিএনপি। নির্বাচনী সাফল্যের পর হবু প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার জবাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দেয় বিএনপি নেতৃত্ব।
শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো অভিনন্দন বার্তা প্রসঙ্গে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরাও আমাদের দলের পক্ষ থেকে নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন মহম্মদ ইউনুস। তাঁর প্রায় দেড় বছরের শাসনামলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে বলে বিভিন্ন মহলে মত প্রকাশ করা হয়। ভারত-বিরোধী মনোভাব, সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ এবং মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এই পরিস্থিতিকে ভালোভাবে নেয়নি ভারত, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা যায়।
অবশেষে সেই অস্থিরতার পর বাংলাদেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দল জামাতকে পিছনে ফেলে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর নতুন করে গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রত্যাশা করছেন দেশের সাধারণ মানুষ। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তা দিল্লির কাছে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য তা উদ্বেগের কারণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনের আগে জামাতের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের যোগাযোগ নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষিতে জামাতের পরাজয়কে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিএনপির জয়ের পর শুক্রবার এক্স হ্যান্দেলে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে এই বিরাট জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি তারেক রহমানকে আমার উষ্ণ অভিনন্দন জানাই।’ আরও একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘এই জয় আপনার নেতৃত্বের ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।’ ভারত ‘গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন’ অব্যাহত রাখবে বলেও বাংলাদেশের আসন্ন সরকারকে আশ্বস্ত করেন মোদি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার করতে এবং আমাদের সাধারণ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে আপনার সাথে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ।’



