মোদির পোস্টে রামকৃষ্ণ হলেন ‘স্বামী’! মমতার প্রতিক্রিয়া ‘আমি আবারও স্তম্ভিত’
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যা নিয়ে সে সময় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণপরমহংসদেবের জন্মতিথি উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ফের সমালোচনার মুখে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে রামকৃষ্ণপরমহংসদেবকে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “আমি আবারও স্তম্ভিত! শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে ‘ঠাকুর’ হিসেবে পূজিত। ঠাকুরকে ‘স্বামী’ বলার মানে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না।”
বৃহস্পতিবার ছিল ঠাকুর রামকৃষ্ণপরমহংসদেবের জন্মতিথি। সকালে প্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানে লেখা হয়, “স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজির জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী। উনি আধ্যাত্ম ও সাধনাকে যেভাবে জীবনীশক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন, সেটা বহু যুগ মানবতার কল্যাণে কাজে লাগবে। ওঁর আদর্শ এবং বার্তা আগামী দিনে আমাদের প্রেরণা দেবে।” পোস্টের অন্যান্য অংশে তেমন কোনও অসঙ্গতি না থাকলেও রামকৃষ্ণদেবকে ‘স্বামী’ বলে উল্লেখ করায় বিতর্ক দানা বাঁধে। বিষয়টি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, ‘আমি আবারও স্তম্ভিত!’
এরপর একটি দীর্ঘ পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘বাংলার মনীষীদের প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অবহেলা, অসংবেদনশীলতা আজ আবার প্রকট হল। আজ যুগাবতার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। এই পুণ্য লগ্নে তাঁকে প্রণাম জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নামের আগে একটা অশ্রুতপূর্ব, অপ্রযোজ্য তকমা জুড়ে দিলেন-‘স্বামী’! সবাই জানেন, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে ‘ঠাকুর’ হিসেবে পূজিত। তাঁর দেহাবসানের পর তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যরা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন তৈরি করেন এবং ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে সেই সন্ন্যাসীদের নামের আগে ‘স্বামী’ উপাধি বসে।
কিন্তু স্বয়ং আচার্যদেব সব সময় ‘ঠাকুর’ নামেই পরিচিত। রামকৃষ্ণ সংঘের যে পবিত্র ত্রয়ী-ঠাকুর-মা-স্বামীজি-সেখানেও তিনি ঠাকুর। মা সারদা ‘মা’ এবং বিবেকানন্দ হলেন ‘স্বামীজি’।’ একই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, আধুনিক ভারতের রূপকার বাংলার এই নবজাগরণের মহাপুরুষদের অপমান করা দয়া করে বন্ধ করুন। তাঁদের জন্য রোজ নতুন নতুন বিশেষণ আবিষ্কার করার কোনও প্রয়োজন নেই। দয়া করে, বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করা বন্ধ করুন।’
প্রধানমন্ত্রীর ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।



