
গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বাম নেতা প্রতীক উর রহমান। জোর গুঞ্জন, কাস্তে-হাতুড়ির শিবির ছেড়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি বাম শিবিরের এই তরুণ নেতা। এরই মধ্যে রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে শোনা গেল তাঁকে। তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প মা-বোনেদের আত্মসম্মানের প্রতীক। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে দলবদলের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। অনেকের মতে, বক্তব্যের মধ্যেই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতীক উর।
ঠিক কী বলেছেন প্রতীক উর? তাঁর কথায়, “একটা সময় আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে বলতাম ভিক্ষা। এখন বুঝছি ওটা ভিক্ষা না, ওটা মানুষের অধিকার। মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে তাঁদের অধিকার বুঝিয়ে দিয়েছেন। মা-বোনেরা তাঁদের আত্মসম্মান ফিরে পেয়েছেন। আমরা আগে ভুল বুঝেছিলাম। পরে বুঝেছি ওটাকে ভিক্ষা বলা যাবে না।” তিনি আরও বলেন, “আমরাও তো পরে স্বীকার করেছিলাম যে কাজগুলো ভালো করেছে রাজ্য। এটা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। আমরাও তো পরে বলেছি ক্ষমতায় এলে ভাতার পরিমান বাড়াবো।”
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, সিপিএম সাধারণ মানুষের থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছে। প্রতীক উরের এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তিনি তৃণমূলমুখী হচ্ছেন। যদিও প্রতীক উর নিজে জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা এখনও তাঁর কাছেও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া এবং তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের বাম নেতা তথা সিপিএমের রাজ্য ও জেলা কমিটির সদস্য প্রতীক উর রহমান। শুরুতে নীরব থাকলেও পরে দলের একাংশের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বারবারই জানিয়েছেন, দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং কিছু নির্দিষ্ট নেতার আচরণেই তাঁর ক্ষোভ। পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করায় সেই অসন্তোষ আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। পাশাপাশি, নাম উল্লেখ না করেই সিপিএমের নতুন নেতৃত্বকেও কটাক্ষ করেছেন তিনি, যা তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়েছে।



