
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের বিরোধিতা করল সুপ্রিম কোর্ট। আধার কার্ড এবং মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, গত বছরের ২৭ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকা ১২টি নথিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছে আদালত। এই রায়ের পর তৃণমূলের দাবি, আদালতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থাপিত সমস্ত দাবিই কার্যত মান্যতা পেয়েছে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই শুনানির পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করে আদালত। কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়। আদালত জানিয়েছে, বিহারে এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় পূর্বে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুসারেই আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৯ জানুয়ারি আদালত এই নথিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং এদিনও বিচারপতিরা সেই অবস্থানই বজায় রেখেছেন।
এছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রথম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পরবর্তীতে যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হবে, সেটিকেও চূড়ান্ত তালিকার অংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, কমিশনের নিজস্ব ক্ষমতার ভিত্তিতেই সার্কুলার ও নির্দেশিকা জারি করা যায়। তবে সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরাই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বহন করেন এবং অন্য কোনও সংস্থা আলাদা করে নির্দেশ জারি করতে পারে না।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে অন্য রাজ্য থেকে আধিকারিক নিয়োগেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতিরা ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের পরামর্শ দেন।
এই নির্দেশ নিয়ে রাজ্যের পক্ষ থেকে আপত্তি জানান আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ভিন রাজ্যের আধিকারিকরা বাংলা ভাষা বুঝতে না পারলে কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, একসময় পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বাঙালি সংস্কৃতির প্রভাব ছিল এবং সেখানকার বহু মানুষই বাংলায় সাবলীল, ফলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যার আশঙ্কা নেই।



