রাজ্য

‘SIR-এ মৃত’ ৬১ জনের পরিবারকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি, সোমে নিয়োগপত্র দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘SIR-এ মৃত’ ৬১ জনের পরিবারকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি, সোমে নিয়োগপত্র দেবেন মুখ্যমন্ত্রী - West Bengal News 24

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) চলাকালীন সময়ে মানসিক উদ্বেগ ও আতঙ্কে রাজ্যে যেসকল মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে মৃত ৬১ জনের পরিবারের একজন সদস্যকে স্পেশাল হোমগার্ড পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার নবান্নে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং তাঁদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেবেন।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিএলও (BLO)-ও মৃত্যুবরণ করেছেন। এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাজের চাপ ও পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সকল পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

কোন জেলায় কতজন চাকরি পাচ্ছেন, সেই তালিকাও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ্যে এনেছে নবান্ন। জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া-১, বাঁকুড়া -১, নদিয়া -৩, পূর্ব মেদিনীপুর ৪, পশ্চিম মেদিনীপুর ৪, পূর্ব বর্ধমান ৫, হাওড়া ৩, মুর্শিদাবাদ ১১, উত্তর ২৪ পরগনা ২, কলকাতা ১, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৫, বীরভূম ৪, কোচবিহার ৩, উত্তর দিনাজপুর ৩, মালদহ ৫, দক্ষিণ দিনাজপুর ১ ও জলপাইগুড়ি থেকে ৫ জন চাকরি পাচ্ছেন।

রাজ্যে এসআইআর-সংক্রান্ত ভীতিতে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল আগরপাড়ায়। পরবর্তীতে টিটাগড়, নৈহাটি, দেগঙ্গা ও আমডাঙাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একই ধরনের মৃত্যুর খবর আসে। মৃতদের স্বজনদের অভিযোগ, নাগরিকত্ব হারানো বা ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার প্রবল দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থেকেই এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।
এই আতঙ্কের জেরে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর প্রথম আত্মহত্যার ঘটনাটি নথিভুক্ত হয়। পানিহাটির আগরপাড়া মহাজাতিনগরের প্রবীণ বাসিন্দা প্রদীপ করের মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ একটি চিরকুট পায়, যেখানে লেখা ছিল ‘আমার মৃত্যুর জন্য এনআরসি দায়ী’। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। এরপর একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসতে থাকে।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে যে সকল পরিবার গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছিল, রাজ্য সরকার এই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার পূরণ করছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য