অপরাধ দমনে ফের অ্যাকশনে ইনস্পেক্টর অনিমেষ দত্ত, চমক শুভশ্রীর! কেমন লাগল ‘আবার প্রলয় ২’?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

নির্দিষ্ট সময় মেনেই ছবি বা সিরিজ মুক্তি পেলেও কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করে নেয়। রাজ চক্রবর্তীর ‘প্রলয়’ সিরিজ সেই তালিকার অন্যতম, যার জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে একটুও কমেনি। ২৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সিজন মুক্তির পর আবারও তা স্পষ্ট হয়ে গেল। আগের দুই পর্ব ‘প্রলয়’ ও ‘আবার প্রলয়’-এর তুলনায় ‘আবার প্রলয় ২’র পরিসর অনেক বড়। শুধু নারী পাচারের ঘটনাই নয়, এর পাশাপাশি ডাকাতি চক্র এবং বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় অপরাধচক্রের বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই সিরিজে। এবারের গল্পের মূল প্রেক্ষাপট বারাকপুর, যা পরিচালক তথা বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর পরিচিত এলাকা। সেই পটভূমিতেই দাপুটে উপস্থিতি ‘ইনস্পেক্টর অনিমেষ দত্ত’ চরিত্রে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর মুখে ‘কবি বলেছেন…’-এর মতো সংলাপ দর্শকদের আলাদা মাত্রা দেয়।
প্রচারপর্ব থেকেই বোঝা গিয়েছিল, এই সিরিজে বাঙালি পরিচয় ও আত্মমর্যাদার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন পরিচালক। সিরিজ দেখার পর সেই ধারণাই আরও স্পষ্ট হয়। গল্পে দেখানো হয়েছে কেন অপরাধীদের কাছে বাংলা সফট টার্গেট হিসেবে বিবেচিত হয়। দুষ্কৃতীদের মুখে শোনা যায় ‘বাঙালিরা নরম। তাই তাঁদের আক্রমণ করা সহজ’-এর মতো সংলাপ। তবে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতেই অনিমেষ দত্ত চরিত্রকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন নির্মাতা। দায়িত্ববান পুলিশ অফিসার হিসেবে যেমন কঠোর, তেমনই সহকর্মীদের প্রতি মানবিক দিকও স্পষ্ট এই চরিত্রে। সহযোদ্ধার মৃত্যুতে তাঁর আবেগী প্রতিক্রিয়াও গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। জুন মালিয়া ও শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের অনস্ক্রিন রসায়ন আগের মতোই সাবলীল ও বিশ্বাসযোগ্য। সিরিজের শেষ পর্বে ক্লাইম্যাক্সে দর্শকদের জন্য বড় চমক রেখেছেন পরিচালক। শেষ মুহূর্তে রণরঙ্গিণী অবতারে পর্দায় হাজির হন শুভশ্রী। নতুন চরিত্রে স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতেই তিনি নিজের দক্ষতার ছাপ রেখে গিয়েছেন। ইনস্পেক্টর অনিমেষ দত্তর সহযোদ্ধা হিসেবে তাঁর উপস্থিতি গল্পে বিশেষ মোড় এনে দেয়।
নির্মাণের দিক থেকেও সিরিজে কোনও খামতি রাখেননি পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। চিত্রগ্রহণ বিশেষভাবে নজর কাড়ে। ড্রোন শটে বারাকপুর, নৈহাটি-সহ বিভিন্ন এলাকার দৃশ্যায়ন দর্শকদের আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। যদিও ‘আবার প্রলয় ২’-এর চিত্রনাট্য মূলত প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য নির্মিত, তবুও ফ্র্যাঞ্চাইজির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত মাত্রায় অশ্লীল ভাষার ব্যবহার করা হয়েছে, যা গল্পের প্রেক্ষিতে যুক্তিযুক্ত। আবহসঙ্গীত গোটা সিরিজ জুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। আগের সিজনের মতোই এবারেও রয়েছে আইটেম ডান্স, যেখানে দেখা যাবে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে আকর্ষণীয় নাচের ভঙ্গিতে। নতুন সিজনে অভিনয় করেছেন সৌরসেনী মৈত্র, রোহন ভট্টাচার্য, ওম সাহানি, আয়েন্দ্রি রায়-সহ আরও একাধিক শিল্পী।
অভিনয়ের দিক থেকেও সিরিজটি শক্তিশালী। আগের সিজনের মতোই দেবাশিস মণ্ডলের অভিনয় স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত। দক্ষ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে তিনি আরও পরিণত। সোহিনী সেনগুপ্ত বরাবরের মতোই নিজের অভিনয়ে আলাদা ছাপ রেখেছেন। পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় রোহন ভট্টাচার্যের অভিনয় প্রশংসনীয় এবং তাঁর অভিনয়ের পরিণতিও স্পষ্ট। সৌরসেনী মৈত্রও নিজের চরিত্রে নজর কেড়েছেন। ‘করালি বাবু’ চরিত্রে পার্থ ভৌমিক আবারও অনবদ্য; তাঁর মুখে ‘হ্যালো স্যার’ সংলাপ গুরুগম্ভীর পরিস্থিতিতেও হাসির আবহ তৈরি করে। পাশাপাশি লোকনাথ দাস, ওম সাহানি এবং অনুজয় ভট্টাচার্যের অভিনয়ও দর্শকদের মুগ্ধ করবে।



