
চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া, নানা রাজনৈতিক বিতর্ক, পাল্টা অভিযোগ এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে সংশোধিত ভোটার তালিকার ‘অর্ধসমাপ্ত’ চূড়ান্ত সংস্করণ। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী মোট ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বাদ পড়াদের মধ্যে মৃত, স্থান পরিবর্তনকারী, অনুপস্থিতসহ বিভিন্ন শ্রেণির ভোটার রয়েছেন।
এসআইআর প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর। সেই সময়ে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। পরবর্তীতে খসড়া তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায়, ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম বাদ গিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ০৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, ফর্ম ৭ অর্থাৎ নাম বাতিলের আবেদন জমা পড়ার ভিত্তিতে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ফর্ম ৬ ও ৬-এ এর মাধ্যমে নতুন করে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছে এবং ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে সংশোধন বা সংযোজন হয়েছে আরও ৬ হাজার ৬৭১ জনের।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এসআইআর চলাকালীন একাধিকবার ফর্ম ৭ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সতর্কবার্তাও দিয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছিল, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুল সংখ্যায় ভুয়ো ফর্ম ৭ জমা দেওয়া হয়েছে। এমনকী বিজেপি কর্মীদের একটি গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ফর্ম ৭ উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও সামনে আসে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ ছিল, জীবিত ব্যক্তিদের মৃত দেখিয়ে ফর্ম সেভেন জমা দেওয়া হচ্ছে। তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ৭ নম্বর ফর্মের ভিত্তিতে ৫ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
অন্যদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছিল, রাজ্যে রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কতজন রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হয়েছে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি। এমনকী মোট কতজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই সংখ্যাও সরাসরি জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। বিভিন্ন তথ্য যোগ-বিয়োগ করে সামগ্রিক চিত্র সামনে আসছে। পাশাপাশি এখনও প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে তালিকা থেকে আরও নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকায় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



