
নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের কালীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘নেতাজি আর্কাইভ’ (কৃষ্ণনগর)-এ তাদের প্রথম পর্বের এডুকেশনাল ট্যুর সম্পন্ন করলো ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বুধবার)। কালীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক বিশ্ববন্ধু সরকারের উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা এদিন ‘নেতাজি আর্কাইভ’ দেখতে এসেছিল।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে নেতাজি আর্কাইভ কর্তৃপক্ষ কুর্নিশ জানিয়েছেন। ‘নেতাজি আর্কাইভ’-এর কিউরেটর ড. দীপাঞ্জন দে এদিন শিক্ষার্থীদের সমগ্র আর্কাইভ ঘুরিয়ে দেখান এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে তাঁদের আর্কাইভে সংরক্ষিত বিষয়গুলি সম্পর্কে বিশদে বলেন। উপস্থিত ছিলেন আর্কাইভের অফিস সহায়ক ফটিক দত্ত। কৃষ্ণনগরে তো বটেই সমগ্র নদিয়া জেলায় নেতাজি একাধিক বার এসেছিলেন।
‘নেতাজি আর্কাইভ’-এ সেই সকল তথ্য অনুসন্ধান করে সযত্নে সংরক্ষণ করা হয়েছে। নেতাজি সম্পর্কিত গবেষণার কাজ তাঁরা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিন কিউরেটর দীপাঞ্জন দে সন, তারিখ-সহ শিক্ষার্থীদের সামনে সেগুলি উপস্থাপন করেন। দিল্লি-নিবাসী নেতাজি-অনুরাগী উৎপল আইচের একটি গবেষণামূলক নিবন্ধ এদিন শিক্ষার্থীদের প্রদান করা হয়। সঙ্গে ‘নেতাজি আর্কাইভ’-এর মুদ্রিত লিফলেটটিও তাদের দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সমাজসেবী শংকরেশ্বর দত্ত ও তাঁর সহধর্মিণী গীতা দত্ত-র প্রতিষ্ঠিত ‘শুভেন্দু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ পরিচালিত কৃষ্ণনগরের এই ‘নেতাজি আর্কাইভ’ ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়। উদ্বোধক ছিলেন শারদ্বতী চৌধুরী (সদর মহকুমা শাসক, প্রশাসক কৃষ্ণনগর পৌরসভা)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রচূড় ঘোষ (প্রখ্যাত নেতাজি-গবেষক)। বিশেষ অতিথি অভিজিৎ রায়ের (নেতাজির মেজদাদা শরৎচন্দ্র বসুর দৌহিত্র) হাত দিয়ে আর্কাইভ ভবনের সম্মুখে নেতাজির আবক্ষমূর্তি উন্মোচিত হয়েছিল।
পরিদর্শনে আসা শিক্ষার্থীদের এদিন নেতাজি আর্কাইভের পুরোটাই দেখানো হয়। দিল্লির ন্যাশনাল আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত গুরুত্বপূর্ণ আই.এন.এ. পেপার্সগুলিও দেখানো হয়। নেতাজি-অনুরাগী শংকরেশ্বর দত্ত-র দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে একটি সংগ্রহশালা গড়ে তোলা। ২০২৬ সালে তাঁর সেই ইচ্ছে পূর্ণ হয়। কৃষ্ণনগরের ‘নেতাজি আর্কাইভ’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁদের উদ্দেশ্য নেতাজি-চর্চায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সেখানকার শিক্ষার্থীরা এভাবেই আগ্রহী হোক এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসুক।



