
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের সাংবিধানিক মহলে বড়সড় পরিবর্তন। বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকাই এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও পরে জানা যায়, খবরটি সত্যি। পশ্চিমবঙ্গের সাংবিধানিক প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বর্তমানে দিল্লিতেই রয়েছেন আনন্দ বোস এবং সেখান থেকেই নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে কী কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপ তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং কোনও চাপের জেরেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
২০২২ সালের নভেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কেরলের বাসিন্দা ও প্রাক্তন আইএএস অফিসার সিভি আনন্দ বোস। দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি আগ্রহ দেখান তিনি। বাংলা ভাষা শেখার উদ্যোগও নেন। পরের বছর সরস্বতী পুজোর দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বাংলা বর্ণে তাঁর হাতেখড়ি হয়। এরপর থেকে নিয়মিত বাংলা চর্চাও করতেন তিনি। প্রথমদিকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজভবনের সম্পর্ক মোটামুটি সুসম্পর্কপূর্ণ থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা ধীরে ধীরে তিক্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসনিক নানা বিষয়ে নবান্নের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য তৈরি হয়। বিশেষ করে রাজ্যের কোথাও হিংসার ঘটনা ঘটলে রাজ্যপাল হিসেবে আনন্দ বোসের বিভিন্ন মন্তব্য শাসক দলের কাছে ভালোভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে ক্রমেই রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। এমনকি কিছু বিল রাজ্যপালের সই না পাওয়ায়, বিধানসভায় পাশ হলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি—যা নিয়ে তৃণমূলের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে।
প্রায় বছরখানেক আগে আরেকটি বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন সিভি আনন্দ বোস। রাজভবনের এক মহিলা কর্মী তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় থানায়। সেই অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে। সেই সময় রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ”রাজভবনে যেতে আতঙ্ক হয়। দরকারে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফাইল সই করাব। কিন্তু ভিতরে যাব না।” তবে বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই বিস্মিত হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। আচমকা এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যপাল হিসেবে তাঁর মেয়াদ থাকার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর আট মাস আগেই পদ ছাড়লেন আনন্দ বোস।



