‘আনন্দ বোসের পদত্যাগে স্তম্ভিত’, আলোচনা ছাড়াই নয়া রাজ্যপাল ঘোষণায় শাহকে তোপ মমতার
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের সাংবিধানিক ক্ষেত্রে আচমকা পরিবর্তনে বিস্মিত প্রশাসনের শীর্ষস্তর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, তিনি ইস্তফা দিয়েছেন এবং তাঁর জায়গায় পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন আরএন রবি, যিনি বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে রয়েছেন। এই খবর সামনে আসার পরপরই সোশাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আনন্দ বোসের এই পদক্ষেপে নিজের বিস্ময়ের কথা লুকোননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত। একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা না করেই কীভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এমন সিদ্ধান্ত নিল। এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁকে ফোন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন রাজ্যপালের নাম জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।
নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় বাকি থাকতেই, তাও আবার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে, সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগ রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারও মতে, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। আবার কেউ মনে করছেন শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, একাংশের মতে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বিজেপির পরামর্শও থাকতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কোনও দলের নাম না করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘আমি তাঁর ইস্তফার কোনও কারণ জানি না। তবে আমি অবাক হব না যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাঁকে নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করানোর জন্য চাপ দিয়ে থাকে, বিশেষ করে বাংলার বিধানসভা ভোটের আগে।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তাঁকে ফোন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলার পরবর্তী রাজ্যপাল হিসেবে আরএন রবির নাম জানিয়েছেন। কোনও আলোচনার সুযোগ না দিয়েই এভাবে সরাসরি নাম ঘোষণা করা সংবিধানের পরিপন্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত বলে তাঁর মত। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের উচিত গণতন্ত্রকে মর্যাদা দেওয়া এবং প্রতিটি রাজ্যের প্রশাসনের প্রতি সম্মান দেখানো। তা না হলে দেশের সামগ্রিক সাংবিধানিক কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।



