ব্রিগেডে মোদির সভা: মঞ্চজুড়ে বাঙালিয়ানার ছাপ, দক্ষিণেশ্বর থেকে টেরাকোটা শিল্প
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার মঞ্চে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। মঞ্চের ব্যাকগ্রাউন্ডে রাখা হয়েছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের ছবি। পাশাপাশি মঞ্চের দু’পাশে তুলে ধরা হয়েছে বাংলার বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা নিদর্শন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল যে বারবার বিজেপিকে বাংলা ও বাঙালি বিরোধী বলে অভিযুক্ত করে, সেই ধারণা ভাঙতেই এই বিশেষ আয়োজন করছে পদ্মশিবির। যদিও এতে বাঙালিদের মন কতটা জিততে পারবে বিজেপি, তা নিয়ে দলের অন্দরেই কিছুটা সংশয় রয়েছে।
শনিবার সকালে কলকাতায় পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রশাসনিক কর্মসূচির পাশাপাশি একটি জনসভাও করার কথা তাঁর। সেই সভাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের জোর প্রস্তুতি। প্রায় ১০ ফুট উঁচু এবং ৮০ ফুট চওড়া এই মঞ্চের নকশাতেই রাখা হয়েছে বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ছাপ। বাঙালি অস্মিতাকে তুলে ধরতেই মঞ্চের পটভূমিতে রাখা হয়েছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রতিরূপ।
আরও পড়ুন :: ভারতের জন্য খুলল হরমুজ প্রণালী! মোদি সরকারের কূটনৈতিক কৌশলে ইরানের অনুমতি, জ্বালানি সংকটে বড় স্বস্তি
মঞ্চের বিভিন্ন অংশে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাও তুলে ধরা হয়েছে। বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত টেরাকোটা শিল্প থেকে শুরু করে পটচিত্র—বিভিন্ন শিল্পরীতির উপস্থিতি দেখা যাবে সেখানে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের হাতির প্রতীক ও বিষ্ণুপুরের মন্দিরের নকশাও রাখা হয়েছে সাজসজ্জায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ‘আমি তোমাদেরই লোক’—এই বার্তা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই মোদির মঞ্চকে এভাবে সাজানো হয়েছে। তবে এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়বে, তা শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলেই বোঝা যাবে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করা হচ্ছে যে বিজেপি বাংলা ও বাঙালি বিরোধী। বিজেপি বাঙালিদের সম্মান করে না এবং মহিলাদের প্রতিও সম্মান দেখায় না—এমন অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে বলেও একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, বাংলায় কথা বলার কারণে ভিনরাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগকেও আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে তৃণমূল। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিগেডে মোদির সভার মঞ্চে বাঙালিয়ানার বিশেষ উপস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



