রাজ্য

ডিএ ইস্যুতে সংঘাত চরমে, শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক, হাজিরা বাধ্যতামূলক জানাল রাজ্য

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

West Bengal DA Issue : ডিএ ইস্যুতে সংঘাত চরমে, শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক, হাজিরা বাধ্যতামূলক জানাল রাজ্য - West Bengal News 24

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ এখনও মেলেনি। সেই দাবিকে সামনে রেখেই শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দিন রাজ্য সরকারের সমস্ত দপ্তর খোলা থাকবে। পাশাপাশি কোনও কর্মী অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বেতন কাটা হতে পারে বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ধর্মঘটের দিনে প্রত্যেক কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওই দিন সাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। কেউ কাজে অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসেবে গণ্য করা হবে। উল্লেখ্য, ‘ডাইস নন’ অর্থাৎ ওই দিনের বেতন প্রাপ্য থাকবে না। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনও কর্মী গুরুতর অসুস্থ হলে, তিনি নিজে হাসপাতালে ভর্তি থাকলে বা পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ থাকলে, পরিবারের কারও মৃত্যু হলে, মাতৃত্বকালীন ছুটি কিংবা আগে থেকে অনুমোদিত ছুটির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।তবে অনুমতি ছাড়া কেউ ছুটি নিলে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হবে। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে সেই ছুটি অনুমোদন করা হবে না এবং বেতন কাটা যেতে পারে। এমনকি নোটিসের উত্তর না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। শুক্রবারের হাজিরার হিসাব আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে চূড়ান্ত করতে হবে। পাশাপাশি অনুপস্থিত কর্মীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই তথ্যও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাতে হবে।

এই প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “গোটা ভারত সুপ্রিম কোর্টে আইন মেনে চলে। তবে বাংলায় একজনের নির্দেশে আইন চলে। সেমিফাইনাল শেষ। এবার ১৩ মার্চ ফাইনাল খেলা হবে।”

উল্লেখযোগ্য, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ অনেক আগেই দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। শীর্ষ আদালত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ পরিশোধের নির্দেশ দেয় এবং তার জন্য ৬ সপ্তাহ সময়ও নির্ধারণ করে। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে অর্থ মেটানো হয়নি। বরং অতিরিক্ত ৬ মাস সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় রাজ্য।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মামলার শুনানি শেষ হয়। পরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ জানায়, ডিএ কর্মীদের আইনি অধিকার এবং তা পরিশোধ করতেই হবে। আদালত নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দু’দফায় মে মাসের মধ্যে দিতে হবে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তি দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে।

পরবর্তী সময়ে বাকি অর্থ কতটা এবং কত সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ পাননি রাজ্য সরকারি কর্মীরা।

রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, ডিএ মেটাতে প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজারেরও বেশি কর্মীর নথি খতিয়ে দেখতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের আগের অনেক তথ্য ডিজিটাল নয়, বরং সার্ভিস বুক আকারে হাতে লেখা নথি রয়েছে। সেগুলি ডিজিটাইজ করতে সময় লাগছে বলেই দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি এসআইআরের কারণে প্রশাসনিক আধিকারিকের সংখ্যাও কমে গিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে রাজ্য। প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়ে বকেয়া ডিএ মেটানোর সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।

তবে রাজ্যের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সরকারি কর্মীরা। সেই কারণেই প্রতিবাদ হিসেবে শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য