বিতর্কের মাঝেই বিজেপির বড় সিদ্ধান্ত, খড়গপুরে হিরণের জায়গায় দিলীপ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে আচমকাই তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সেই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও কন্যা আইনি পদক্ষেপও নেন। ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই বিতর্কিত বিধায়ককে দল আবার টিকিট দেবে কি না, তা নিয়েই জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
সোমবার বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, নিজের জেতা কেন্দ্র খড়গপুর এবার আর থাকছে না হিরণের হাতে। ওই আসনে ফের প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে। দলের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। তাঁর কথায়, “ও খড়গপুরের লজ্জা।”
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। তবে ২০২১ সালের ভোটে তাঁকে ওই আসন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী করা হয় অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। নির্বাচনে জয় পেলেও দিলীপ ঘোষের জায়গায় হিরণকে মেনে নিতে পারেননি অনেকেই।
আরও পড়ুন :: ফের মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দু, নন্দীগ্রামের পর লড়াই এবার ভবানীপুরে
পরে দলের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের দূরত্বও বেড়ে যায় এবং তিনি কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েন। তবে ২০২৬-এর আগে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সভার মঞ্চেও তাঁকে দেখা যায়। ফলে তাঁর টিকিট পাওয়া নিয়ে মোটামুটি নিশ্চিত ধারণা তৈরি হয়েছিল। খড়গপুর সদর দিলীপ ঘোষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্ষেত্র হওয়ায় এই কেন্দ্র তাঁর পছন্দের বলেই মনে করা হয়। যদিও কোন আসন থেকে তিনি প্রার্থী হবেন তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল, কারণ সেখানে ছিলেন হিরণ।
অন্যদিকে গত কয়েক মাস ধরে দ্বিতীয় বিয়েকে ঘিরে প্রবল চাপে পড়েছিলেন হিরণ। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি শেষ পর্যন্ত তাঁর উপর ভরসা রাখবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, খড়গপুর সদর আসনে ফের ভরসা রাখা হয়েছে দিলীপ ঘোষের উপর। তালিকায় হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নাম নেই।
এই সিদ্ধান্তে খুশি হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। তিনি বলেন, “কোনও মানুষের চারিত্রিক গুণ থাকলে মানুষ তাঁকে ভরসা করতে পারে। মানুষ যা ভেবে ভরসা করেছিল, আসলে তা তো নয়, মুখোশটা খুলে গেছে। মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। ও খড়গপুরের লজ্জা।”



