
একাধিক বিতর্কে নাম জড়ালেও বিজেপির ভরসার মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন চন্দনা বাউড়ি (Chandana Bauri)। বাঁকুড়ার শালতোড়া কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক তিনি। বেশ কিছু পরিচিত মুখ বাদ পড়লেও এবারও ওই কেন্দ্র থেকে পদ্ম চিহ্নে লড়াইয়ের সুযোগ পেলেন চন্দনাই। সোমবার প্রকাশিত বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকা (BJP Candidate List)-তেই শালতোড়া কেন্দ্রে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার শালতোড়া কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী করা হয়েছিল চন্দনা বাউড়িকে। সাধারণ জীবনযাপন করা এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের এই গৃহবধূকে প্রার্থী করায় সেই সময় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে তা ছিল বড় চমক। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন তিনি। এরপর বিধানসভায় শপথগ্রহণ করেন। তবে তার পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে অনেক ঘটনা ঘটেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও সামনে আসে।
বিধায়ক হওয়ার চারমাসেই স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে দলের কর্মী, পেশায় ড্রাইভারকে বরমাল্য পরিয়েছিলেন শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি! স্বামী ও দুধের সন্তানের কথা চিন্তা না করেই বিবাহিত প্রেমিক কৃষ্ণকে বিয়ে করেছিলেন চন্দনা? ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। এই ঘটনার জেরে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন চন্দনা। তাঁর দাবি ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। স্বামীর সঙ্গে সামান্য পারিবারিক অশান্তি হয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন :: ‘ওরা নারীবিদ্বেষী-বাঙালি বিদ্বেষী’, মধ্যরাতে ‘ছুপারুস্তমে’র মতো মুখ্যসচিব বদলে কমিশনের বিরুদ্ধে মমতার তোপ
বিধায়ক হওয়ার চারমাসেই স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে দলের কর্মী, পেশায় ড্রাইভারকে বরমাল্য পরিয়েছিলেন শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি! স্বামী ও দুধের সন্তানের কথা চিন্তা না করেই বিবাহিত প্রেমিক কৃষ্ণকে বিয়ে করেছিলেন চন্দনা?
এছাড়াও বাড়ি নির্মাণ ঘিরেও তাঁকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আগে বাঁশ ও মাটির দেওয়াল, উপরে ত্রিপল দেওয়া ঝুপড়ি ঘরেই বসবাস করতেন চন্দনা। বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পরেও কিছুদিন সেই বাড়িতেই ছিলেন তিনি। শালতোড়ার ওই বাড়িতেই তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পৌঁছেছিলেন। তাঁদের আপ্যায়নেও কোনও খামতি রাখেননি চন্দনা। পরে অবশ্য সেই বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন তিনি।
বিধায়ক হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই দোতলা বাড়ি তৈরি করেন চন্দনা। কীভাবে এত দ্রুত সেই বাড়ি তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধীরা। রাজনৈতিক মহলেও তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কঠোর পরিশ্রম করেই ওই বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তাঁর কথায়, ২০২০ সালে আবাস যোজনার ঘর পেয়েছিলেন। পাশাপাশি গরু-বাছুর বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছিলেন, সেই অর্থ দিয়েই ধীরে ধীরে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন :: বিতর্কের মাঝেই বিজেপির বড় সিদ্ধান্ত, খড়গপুরে হিরণের জায়গায় দিলীপ
বিধায়ক হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই দোতলা বাড়ি বানিয়েছিলেন চন্দনা। কীভাবে ওই বাড়ি হল? সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। রাজনৈতিক মহলেও জোর জল্পনা ছড়িয়েছিল। সেই বিতর্কের মধ্যেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কষ্ট করেই ওই বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি।
বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচি ও বিধানসভায় দলের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বহুবার প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে চন্দনাকে। শুধু তাই নয়, একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাশেও তাঁকে দেখা গেছে। বিতর্ক সঙ্গী হলেও শেষ পর্যন্ত শালতোড়া কেন্দ্র থেকেই আবারও বিজেপির টিকিট পেলেন চন্দনা বাউড়ি।



