
পশ্চিমবঙ্গে কি জারি হতে চলেছে রাষ্ট্রপতি শাসন? এই জল্পনার মাঝেই বড় বার্তা দিল বিজেপি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের কোনও ইচ্ছা তাদের নেই। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন—তার আগেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।
শুক্রবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারি করার কোনও ইচ্ছা বিজেপির নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষ নাকি প্রশ্ন করছেন – এত ঘটনার পরও কেন রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হচ্ছে না। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে সেই পথে না যাওয়ারই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন :: ভোটের আগে ডিজিটাল কড়াকড়ি! প্রার্থীদের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নজর কমিশনের
🔴 মমতার বিরুদ্ধে ‘শহিদ হওয়ার রাজনীতি’র অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, রাজ্যে কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন চালানো হচ্ছে, যদিও তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এর জবাবে শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ—
মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন তিনি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যেতে পারেন, তাই ‘শহিদ’ হওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।
🟣 ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’ নিয়ে বিজেপির আক্রমণ
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রকাশিত ‘বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’ ইস্তেহারকেও নিশানা করেছে বিজেপি।
বিশেষ করে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ প্রকল্প নিয়ে শমীক বলেন—
জেলা হাসপাতালে ওষুধের অভাব
রোগীদের কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে
সরবরাহকারীরা সময়মতো টাকা পাচ্ছেন না
তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
আরও পড়ুন :: দুয়ারে চিকিৎসা থেকে ১০ লক্ষ চাকরি ‘প্রতিজ্ঞা’ ইস্তেহারে বড় বাজি তৃণমূলের
🟢 শিক্ষা ও পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন
তৃণমূলের শিক্ষা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি দাবি করেছে—
ইতিমধ্যেই প্রায় ৮,০০০ স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে
পানীয় জলের প্রকল্প শেষ হতে ২০২৭ পর্যন্ত সময় লাগছে
বিজেপির মতে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবের সঙ্গে মেলে না।
🟠 আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড় দাবি বিজেপির
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, রাজ্যে প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে। তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকার গঠন করতে পারলেই সেই পরিবর্তন আসবে।
🔴 পাল্টা আক্রমণে তৃণমূল
বিজেপির এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন—
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খারাপ
মণিপুর, হাতরাস, উন্নাও-এর উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন
তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরই আস্থা রাখবেন।
বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক তরজা। রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে জল্পনা, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং আইন-শৃঙ্খলা—সবকিছু মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনার পর্যায়ে।
👉 আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।



