
যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ইতিমধ্যেই মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে প্রভাব পড়েছে। রান্নার গ্যাসের জোগান ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তরাঁয় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ইন্ডাকশন ও মাইক্রোওয়েভের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রের উপর নির্ভরতা বাড়ছে।
অন্যদিকে, সামনে গ্রীষ্মের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখা ও এসির ব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাসের পর বিদ্যুতের সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দেবে কি না, তা নিয়েই উদ্বেগ ছড়িয়েছে সর্বত্র। সোমবার সংসদে এই আশঙ্কা দূর করতে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তিনি বলেন, “সামনে গ্রীষ্মকাল। এই সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে এবং সমস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন :: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব! বাড়ল প্রিমিয়াম পেট্রলের দাম
বিকল্প শক্তির উৎস বাড়াতে দেশ জোর দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মোদি আরও জানান, “জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বৈদ্যুতিন ক্ষেত্র আরও বাড়িয়েছে সরকার। মেট্রো, রেলের পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে ইভি বাস। শক্তিই অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ফলে ভারতের অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব যাতে ন্যূনতম থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।”
সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার দেশবাসীর অসুবিধা কমানোর জন্য যা যা করা প্রয়োজন সবটা করছে। দেশের অন্দরে জ্বালানি গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। পেট্রল, ডিজেলের সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে তার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কয়লা, এলপিজি, এলএনজি আমদানিতেও বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। বর্তমানে ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে। এই যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের একাধিক জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে এসেছে।” উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বক্তব্যের আগে রবিবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।



