অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে নবান্নের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, জারি ৬ দফা কড়া নির্দেশিকা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করল রাজ্য প্রশাসন। নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ অবাধ, স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর ও আধিকারিকদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করলেন মুখ্যসচিব। গত ২২ মার্চ, রবিবার নবান্ন থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্রকার অশান্তি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
স্বচ্ছতার লক্ষ্যে ৬ দফা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে মুখ্যসচিবের জারি করা এই নির্দেশিকায় মূলত ছয়টি প্রধান বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ক্ষেত্রগুলিতে কোনো বিচ্যুতি ঘটলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে:
আরও পড়ুন :: আইএসএফের তালিকায় একাধিক চমক, কেন্দ্রবিন্দুতে আরাবুল ইসলাম
হিংসামুক্ত পরিবেশ: নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক হিংসা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ: কোনো ভোটারকে যাতে কেউ হুমকি বা ভয় দেখাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রলোভনমুক্ত নির্বাচন: ভোটদাতাদের কোনো প্রকার উপঢৌকন বা টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা যাবে না।
ছাপ্পা ভোট রুখতে কড়াকড়ি: জাল ভোট বা ‘ছাপ্পা’ রুখতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। বুথ স্তরে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
বুথ দখল প্রতিরোধ: বুথ জ্যামিং বা ভোটদান কেন্দ্রে অবৈধ জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভোটারদের যাতায়াতে বাধা নয়: ‘সোর্স জ্যামিং’ বা ভোটারদের বাড়ি থেকে বেরোতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে বা বিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন :: কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে সন্তোষ পাঠক, চৌরঙ্গী কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার জোর জল্পনা
নবান্ন জানিয়েছে, এই নির্দেশিকা প্রতিটি সরকারি দফতর, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং স্থানীয় পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরের প্রতিটি কর্মীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। নির্দেশিকাটি যথাযথভাবে পৌঁছল কি না, তার প্রমাণ হিসেবে আগামী ২৫ মার্চ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ইমেল আইডিতে (wblacompliance@gmail.com) কনফার্মেশন রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিগত নির্বাচনগুলির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগেভাগে সতর্ক হচ্ছে রাজ্য। প্রতিটি ভোটার যাতে কোনো ভয় বা চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই এখন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের এই আগাম তৎপরতা সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।



