‘৩০ তারিখ রান্নার গ্যাস ২ হাজার টাকা এবং পেট্রোল-ডিজেলের দাম ২০০ টাকা হবে’, ভবিষ্যদ্বাণী অভিষেকের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বাজতেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মেঘ ঘনিয়েছে। ভারতেও কি এবার মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়তে চলেছে? একদিকে যখন মোদী সরকার আমজনতাকে আশ্বস্ত করছে, ঠিক তখনই উল্টো সুর শোনা গেল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। রান্নার গ্যাস এবং পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ে এমন এক আশঙ্কার কথা শোনালেন তিনি, যা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিনপুরের নির্বাচনী সভা থেকে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বর্তমান সময়ে জ্বালানির দাম না বাড়ার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্ক। অভিষেক সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন: “এরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাংলার নির্বাচন অবধি পেট্রোল, ডিজেল আর রান্নার গ্যাসের দাম বাড়াবে না। আমার কথা লিখে রাখুন, যেদিন নির্বাচন শেষ হবে, ৩০ তারিখ রান্নার গ্যাসের দাম ২ হাজার টাকা হবে। আর পেট্রোল-ডিজেলের দাম পৌঁছাবে ২০০ টাকায়।”
আরও পড়ুন :: যুদ্ধের প্রভাব রান্নাঘরে! PNG না নিলে ৩ মাসে বন্ধ LPG! জ্বালানি সংকটে কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
তৃণমূল নেতার এই মন্তব্য মূলত সাধারণ মানুষের মনে ‘ভোট পরবর্তী মূল্যবৃদ্ধি’র আতঙ্ক উসকে দিয়েছে। তাঁর মতে, ভোট মিটে গেলেই সাধারণ মানুষের ওপর ফের আর্থিক বোঝা চাপাতে পারে বিজেপি সরকার।
যদিও কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব ভারতে পড়তে দেওয়া হবে না। এমনকি সম্প্রতি অন্তঃশুল্ক কমিয়ে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টাও করেছে দিল্লি। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতা বজায় থাকলে দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তি পাওয়া কঠিন হতে পারে।
কেন দুশ্চিন্তায় আমজনতা?
অভিষেকের এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে মধ্যবিত্তের হেঁশেল সামলানো দায় হয়ে পড়বে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির অর্থ হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যের আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
নির্বাচনী কৌশল: বিরোধীদের দাবি, ভোট টানতেই দাম আটকে রাখা হয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা।
সরকারি পদক্ষেপ: কেন্দ্র বলছে মজুত পর্যাপ্ত, ভয় পাওয়ার কারণ নেই।
আসন্ন ৩০ তারিখ কি সত্যিই অভিষেকের এই ভবিষ্যদ্বাণী ফলে যাবে? নাকি স্রেফ রাজনীতির ময়দানে চাপানউতোর হিসেবেই থেকে যাবে এই মন্তব্য, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।



