
বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভবানীপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ। এই কেন্দ্রে মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এরই মধ্যে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দলীয় কার্যালয় তৈরির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। তৃণমূলের দাবি, কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বোরোর অন্তর্গত ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডেই এই নির্মাণকাজ চলছে।
সুব্রত বক্সীর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতার ২৩বি অরফ্যানগঞ্জ রোডে একটি বিতর্কিত জমিতে বড় আকারে বাঁশের কাঠামো বা প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। তৃণমূল জানিয়েছে, জমিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন, ফলে সেখানে নির্মাণ আইনত প্রশ্নের মুখে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর পুর আইনের ৪০১ ধারা অনুযায়ী ‘স্টপ ওয়ার্ক’ নোটিস জারি করা হয়েছিল, কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই কাজ চলছে। এমনকি এই বিষয়ে আলিপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪০১এ ধারায় মামলাও দায়ের হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন :: চার্জশিট ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত তুঙ্গে! শাহকে ‘দিল্লির জমিদার’ বলে কটাক্ষ মমতার
তৃণমূলের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বেই এই নির্মাণকাজ চলছে, যা মূলত নির্বাচনী ক্যাম্প অফিস তৈরির উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। দলের দাবি, স্থানীয় পুলিশ কাজ বন্ধ করতে গেলে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ অনুযায়ী, শুভেন্দু ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে হুমকি দেন এবং নির্বাচনের পর ‘শিক্ষা দেওয়া’র হুঁশিয়ারি দেন, যা সংবাদমাধ্যমের সামনেই ঘটেছে বলে দাবি। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিন দু’টি লরি ভর্তি বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী জোর করে ওই জমিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তৃণমূলের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছে এবং এলাকায় অশান্তির আশঙ্কা তৈরি করছে। তাই দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নির্মাণ বন্ধ করা, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করার দাবি জানানো হয়েছে কমিশনের কাছে। চিঠিতে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে নির্বাচনের আগে বড়সড় অশান্তি তৈরি হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘‘আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট চাইছি। কিন্তু বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারী বার বার নানা কার্যকলাপের মধ্যে দিয়ে অশান্তি তৈরি করে ভবানীপুরকে উত্তপ্ত করতে চাইছেন। তাই ওঁরা একটি বিতর্কিত জমিতে পার্টি অফিসে তৈরি করে গোলমালের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন। সেই পরিস্থিতি তৈরিতে যাতে বিজেপি সফল না হয়, সে কারণেই আমাদের রাজ্য সভাপতি নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ করতে চিঠি দিয়েছেন।’’
অন্যদিকে, অভিযোগের জবাবে দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ খটিক বলেন, ‘‘তৃণমূলই একটা বিতর্কিত রাজনৈতিক দল। যারা দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীকে মানে না। ভারত সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করে। তাদের কাছে কোনটা আইনি আর কোনটা বেআইনি তা বিজেপি শিখবে না। এমন একটি রাজনৈতিক দল যে আমাদের পার্টি অফিস তৈরির ক্ষেত্রে বিরোধিতা করবে, এটাই স্বাভাবিক। শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে বিজেপির প্রার্থী হওয়ায় যে তৃণমূল রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছে, তা এই চিঠি থেকেই স্পষ্ট।’’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক রাতে এই পার্টি অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসার ঘটনা ঘটে। অস্থায়ী অফিস তৈরির জন্য আনা বাঁশবোঝাই গাড়ি পুলিশ আটকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সেখানে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে আবারও উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে আলিপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।



