নদীয়া

“প্রোটোকল মানেননি”, কড়া বার্তা দিয়ে বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড কমিশনের

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Hanskhali BDO Sayantan Bhattacharya Suspended : “প্রোটোকল মানেননি”, কড়া বার্তা দিয়ে বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড কমিশনের - West Bengal News 24

হাঁসখালি ব্লকের বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। কয়েক দিন আগে নদিয়ার রানাঘাটে একটি স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ চলাকালীন এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগেই কমিশন সায়ন্তনের কাছে শো কজ় নোটিস পাঠিয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, হাঁসখালিতে ভোট প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সামগ্রিক দায়িত্ব ছিল বিডিও-র উপর। কিন্তু তিনি তাঁর নির্বাচনী দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি এবং প্রয়োজনীয় প্রোটোকল বজায় রাখতেও ব্যর্থ হয়েছেন। সায়ন্তনের এই গাফিলতির ফলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই মনে করছে কমিশন। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন :: ৬০০ কোটির সাইবার কেলেঙ্কারি! শিল্পপতি পবন রুইয়া গ্রেফতার, জালে পরিবারও

ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের ২৭ তারিখ। সেদিন রানাঘাটের দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ় স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেন সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক। তাঁর দাবি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করায় বিডিও-র নেতৃত্বেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। সৈকতের সহকর্মীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণের শুরুতেই প্রোজেক্টরের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত ভিডিও দেখানো হচ্ছিল। এতে আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে বলে আপত্তি জানানোর পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং মারধরের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগের মুখে সায়ন্তন নিজে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অশান্তির কথা স্বীকার করলেও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে শো কজ় করে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলির তরফে প্রশ্ন ওঠে, কেন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রাজ্য সরকারের প্রকল্প সংক্রান্ত ভিডিও দেখানো হল।

আরও পড়ুন :: ভোটের আগে মহাগর্জন! ভোটার তালিকায় ‘কারচুপি’র অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ অভিষেক

এ প্রসঙ্গে নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লি জানান, ভুলবশত প্রোজেক্টরে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ভেসে উঠেছিল এবং তা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। এই বিষয়ে কমিশনের কাছে রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় এবং তাঁদের গ্রেফতারও করা হয়েছিল। যদিও বর্তমানে তাঁরা জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

সায়ন্তনের সাসপেনশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আক্রান্ত ভোটকর্মী সৈকত। তিনি বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্ত আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রের পক্ষে কমিশনের ভূমিকার ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের পক্ষে থাকা এক শ্রেণির আমলাদের জন্যেও একপ্রকার হলুদ কার্ড হয়ে থাকল।’’

আরও পড়ুন ::

Back to top button