
কলকাতার বাজারগুলির পরিকাঠামো ও পরিবেশ বদলের পরিকল্পনার কথা জানালেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বাজারে ঢুকলেই যাতে ক্রেতাদের ভিড়, ঠেলাঠেলি, জমা জল কিংবা আবর্জনার সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যেই বাজারগুলিকে নতুনভাবে সাজানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
শহরের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা এর আগেও জানিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। বেআইনি পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা পরিষ্কার রাখা এবং শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এবার বাজারগুলির পরিবেশ নিয়েও জোর দিয়েছেন তিনি।
বাজারের চেহারা বদলের পরিকল্পনা
শহরের বিভিন্ন বাজারে এখনও জল জমে থাকা, আবর্জনা পড়ে থাকা এবং অতিরিক্ত ভিড়ের মতো সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতি বদলে এমন বাজার তৈরি করতে চান যেখানে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারবেন।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “বাজারকে সুন্দর করতে চাইছি। এখানে এলে দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। এখন বাজারে গিয়ে ভিড়, ঠেলাঠেলি, জল পড়ে আছে নোংরা। আমরা এমন বাজার বানাব আপনার জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা হবে।”
অর্থাৎ শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, বাজারের সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
পার্কিং নিয়েও বড় পরিকল্পনা
বাজার ও শহরের যানজটের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বেআইনি ও অপরিকল্পিত পার্কিং। এই সমস্যা নিয়েও ফের অ্যাপ-ভিত্তিক ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, পার্কিং এখন অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং করা যাবে।”
এর আগে রাজ্য প্রশাসনের তরফে শহরে প্রযুক্তিনির্ভর পার্কিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের তথ্য পাওয়া এবং পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কালো প্লাস্টিক নিয়েও কড়া অবস্থান
শহর পরিষ্কার রাখার পরিকল্পনার সঙ্গে প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়টিও যুক্ত করেছেন মন্ত্রী। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য অনুযায়ী, যেখানে কালো প্লাস্টিক তৈরি হচ্ছে, সেগুলি বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাজারগুলিতে আবর্জনা ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো গেলে শহরের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাতেও তার প্রভাব পড়বে—এমন লক্ষ্যেই প্রশাসনের পদক্ষেপ বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।
মহালয়ার আগে রাস্তা মেরামতের লক্ষ্য
শহরের বেহাল রাস্তা নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর দাবি, মহালয়ার আগে রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, “মহালয়ার আগে সমস্ত রাস্তা হয়ে যাবে, যদি কোনও রাস্তা মিস হয়ে যায় আমাদেরকে জানান আমরা সেই রাস্তা সম্পন্ন করব।”
রাস্তা মেরামতের এই সময়সীমা নিয়ে প্রশাসনের কাজ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমালোচনা নিয়েও মুখ খুললেন মন্ত্রী
শহর পরিষ্কার রাখা, পার্কিং নিয়ন্ত্রণ কিংবা বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোর মতো পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন অগ্নিমিত্রা।
সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংবাদ মাধ্যম ট্রোল করছে। ভাল কাজ মানুষ নিতে পারে না।” এরপর বিরোধীদেরও কটাক্ষ করেন তিনি।
তবে রাজনৈতিক মন্তব্যের বাইরে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের মূল বিষয় হল নাগরিক পরিষেবার পরিকাঠামো বদল। বাজার, পার্কিং, রাস্তা এবং প্লাস্টিক—এই চারটি ক্ষেত্রেই আগামী দিনে পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে।
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজারগুলির পরিবেশ ও পরিকাঠামো উন্নত করা, পার্কিং ব্যবস্থাকে অ্যাপ-নির্ভর করা, কালো প্লাস্টিকের ব্যবহার ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং রাস্তা মেরামতের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে বাজারগুলির ক্ষেত্রে ঠিক কোন কোন বাজারে কী ধরনের পরিকাঠামোগত পরিবর্তন হবে, তার বিস্তারিত প্রকল্প, সময়সীমা ও বাস্তবায়ন কাঠামো এই বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি। তাই নির্দিষ্ট বাজারভিত্তিক পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশ্যে এলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী আপডেটই হবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
FAQ
কলকাতার বাজারে কী পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে?
বাজারে ভিড়, ঠেলাঠেলি, জমা জল ও আবর্জনার সমস্যা কমিয়ে পরিবেশ ও পরিকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল।
কলকাতায় কি অ্যাপের মাধ্যমে পার্কিং বুক করা যাবে?
অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, অ্যাপের মাধ্যমে পার্কিং বুকিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রাস্তা মেরামত নিয়ে কী বলেছেন অগ্নিমিত্রা পাল?
তিনি জানিয়েছেন, মহালয়ার আগে রাস্তার কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। কোনও রাস্তা বাদ পড়লে প্রশাসনকে জানাতে বলেছেন তিনি।
কালো প্লাস্টিক নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে?
অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, যেখানে কালো প্লাস্টিক তৈরি হচ্ছে, সেগুলি বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাজারের পরিবর্তন কবে থেকে দেখা যাবে?
উৎস বক্তব্যে নির্দিষ্ট বাজারভিত্তিক পূর্ণ সময়সীমা জানানো হয়নি। তাই নির্দিষ্ট উদ্বোধন বা কাজ শেষের তারিখ দাবি করা উচিত নয়।



