
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যসভায় ফিরলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর তাঁর হাতে জয়ের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। আসনটিতে অন্য কোনও প্রার্থী মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় আগামী ১৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণের আর প্রয়োজন হচ্ছে না।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন কোয়েল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সেই আসনেই উপনির্বাচনের প্রার্থী হন। ৪ অক্টোবর বিজেপি তাঁর নাম ঘোষণা করে, পরের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন অভিনেত্রী।
কীভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় কোয়েল মল্লিকের?
কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনটি পূরণের জন্য উপনির্বাচনের দিন ধার্য হয়েছিল ১৬ অক্টোবর। বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করার পর মনোনয়ন জমা দেন অভিনেত্রী। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেননি।
ফলে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর কোয়েলের হাতে জয়ের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নয়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন তিনি।
তৃণমূল থেকে বিজেপি, কয়েক মাসে বদলাল রাজনৈতিক পরিচয়
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। তাঁর সঙ্গে ওই সময়ে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার ও মেনকা গুরুস্বামীর মতো প্রার্থীরাও। তবে কোয়েলের সাংসদ-জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৬ জুলাই তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন।
এরপর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ৪ অক্টোবর বিজেপি রাজ্যসভা উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করার কথা ঘোষণা করে। পরের দিন, ৫ অক্টোবর বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন কোয়েল। একই দিনে রাজ্যসভা উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্রও জমা দেন তিনি।
রাজ্যসভায় যাওয়ার আগে কী বলেছিলেন কোয়েল?
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েল জানিয়েছিলেন, মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পেতেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। নতুন দলের মাধ্যমে সেই কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে তাঁর আশা। রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় এবার সংসদের উচ্চকক্ষে তাঁর সেই ভূমিকা পালনের সুযোগ তৈরি হল।
তবে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে তাঁর শপথগ্রহণের দিনক্ষণ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা ঠিক হবে না।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই জয়?
কোয়েল মল্লিকের এই নির্বাচনের তাৎপর্য শুধু একজন অভিনেত্রীর সংসদে প্রত্যাবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কয়েক মাসের ব্যবধানে তৃণমূলের সাংসদ থেকে বিজেপির সাংসদ হওয়ার ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গের এই আসনটি পূরণের জন্য ভোটগ্রহণ করতে হচ্ছে না। তবে তাঁর সাংসদ হিসেবে কাজের পরিধি, সংসদে অংশগ্রহণ এবং রাজ্যের কোন কোন বিষয়ে তিনি সরব হন, তা পরবর্তী সময়ে নজরে থাকবে।
কোয়েল মল্লিকের সামনে এখন অভিনয়জগতের পরিচয়ের পাশাপাশি সংসদীয় দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জ। মানুষের জন্য কাজ করার যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি রাজনীতিতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন, রাজ্যসভায় তাঁর কার্যকলাপের মধ্য দিয়েই সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ বোঝা যাবে।
১৬. FAQ — পাঠকের সম্ভাব্য প্রশ্ন
১. কোয়েল মল্লিক কি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছেন?
হ্যাঁ। ৯ অক্টোবর ২০২৬-এ বিজেপির প্রার্থী কোয়েল মল্লিক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
এবার তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছেন।
৩. কোয়েল মল্লিক কেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন?
তাঁর বিরুদ্ধে ওই আসনে অন্য কোনও প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেননি। ফলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি।
৪. কোয়েল মল্লিক আগে কোন দলের সাংসদ ছিলেন?
তিনি আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৬ জুলাই ২০২৬-এ সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন।
৫ অক্টোবর ২০২৬-এ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন এবং রাজ্যসভা উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেন।



