
সঠিক ক্যারিয়ার নির্বাচন করতে গিয়ে অনেকেই ঝামেলায় পড়ে থাকেন। এটি বাছাই করাটা বলতে গেলে অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া বর্তমানে কাজ করার ক্ষেত্রও অনেকটা বেড়েছে। তাই কোন ক্ষেত্রটাকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিব তা নির্ধারণ করা মুশকিল।
প্রিয় পাঠক, আপনিও যদি এমন সমস্যায় পড়ে থাকেন তবে আপনার জন্যই এই প্রতিবেদন। জ্বি হ্যাঁ, নিচে উল্লেখিত ৮ উপায়ে এই বাছাই পর্বটি আপনি খুব সহজেই সেরে নিতে পারেন।
১। নিজেকে মূল্যায়ন করুন, নিজের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানুন
ক্যারিয়ার নির্বাচনের আগে নিজেকে জানুন, নিজের পছন্দকে মূল্যায়ন করুন। কোন বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে, মনোবল কতটুকু, আপনার ব্যক্তিত্ব কী ধরনের বা কী ধরনের কাজ করে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন সে বিষয়ে জানুন। নিজেকে মূল্যায়নের বিষয়টি আপনার সঠিক ক্যারিয়ার নির্বাচনে সহায়তা করবে।
এক্ষেত্রে অনলাইনে আত্ম-মূল্যায়নের একটি পরীক্ষায় অংশও নিতে পারেন যা থেকে জানতে পারবেন কোন ক্যারিয়ার আপনার জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিবে এবং ক্যারিয়ার বাছাই করার নির্দেশনাটি ঠিক কেমন হওয়া উচিত।
২। নিজেকে এই ৫ টি প্রশ্ন করুন
সঠিক ক্যারিয়ার নির্বাচনে নিজেকে এই ৫ টি প্রশ্ন করুন।
ক) আপনার কেমন দক্ষতা আছে? জানার চেষ্টা করুন কোন বিষয়ে আপনার দক্ষতা সর্বাধিক যেটাতে আপনি ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠা করলে কখনও আটকাবেন না।
খ) পদোন্নতি নাকি নিবারণ করতে চান? যারা পদোন্নতি চান তারা আশাবাদী, কেন্দ্রীভূত, ঝুঁকি গ্রহণকারী, বিমূর্ত চিন্তাবিদ এবং সৃজনশীল চিন্তার অধিকারী হয়ে থাকেন। আর যারা ক্যারিয়ারে নিবারণ বা সংবরণ করতে চান তারা পরিকল্পনাকারী, অবস্থা সচেতন, বিশ্লেষণী চিন্তাসম্পন্ন এবং ঝুঁকি অগ্রহণকারী হয়ে থাকেন।
গ) কী ধরনের পরিবেশে কাজ করতে চান? একাকী, টিম নিয়ে, বাসা থেকে নাকি মাঠ পর্যায়ে কোন পরিবেশে কাজ করতে চান তা জানার চেষ্টা করুন।
ঘ) কী ধরনের লাইফস্টাইলে নিজের জীবনকে সাজাতে চান? আপনি কী ধরনের জীবনপ্রক্রিয়া চান তা জানার চেষ্টা করুন। আপনি শুধুই অর্থ উপার্জন করতে চান, নাকি নির্দিষ্ট সময়ভিত্তির কাজ করতে চান, বাইরে ঘোরাঘুরি ধরনের কাজ করতে চান, এ বিষয়ে নিশ্চিত হোন।
ঙ) কোথায় বসবাস করতে চান? আপনি যদি নিউইয়র্কে বসবাস করতে চান এবং একইসাথে নৃতত্ত্ববিদ হতে চান তাহলে মনে রাখবেন একসঙ্গে এই দুটি সম্ভব না। এতে যেকোনো একটিকে আপনার বেছে নিতে হবে।
এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর জানতে পারলে তা আপনার সঠিক ক্যারিয়ার নির্বাচনে অনেকটাই সহায়তা করবে।
৩। পছন্দের পেশাগুলোর একটা তালিকা করে ফেলুন
আপনার পছন্দের তালিকায় হয়ত অনেকগুলো পেশা থাকতে পারে। আত্ম-মূল্যায়নের পরীক্ষা এবং উপরোক্ত ৫ প্রশ্নের উত্তর অনুসারে পছন্দের পেশাগুলোর একটা তালিকা তৈরি করে ফেলুন, পাশাপাশি সেই পেশাগুলোতে কেন যেতে চান বা কেন সেগুলো আপনার জন্য ভালো পেশা হবে তার কারণও লিখে ফেলুন।
এই তালিকায় যখনই পেশাগুলোতে যাওয়ার কারণ বর্ণনা করবেন তখনই এর পরিসর ছোট হয়ে আসবে এবং বুঝতে পারবেন ঠিক কোন পেশাগুলো আপনার জন্য প্রযোজ্য হবে।
৪। তালিকায় উল্লেখিত সব পেশাগুলোর বিশ্লেষণ করুন
তালিকায় যে পেশাগুলো আপনি লিখেছেন সেগুলোর একটা বিশ্লেষণী বর্ণনা তৈরি করুন। এর জন্য অনলাইনে বা নিউজপেপার পড়ে জানার চেষ্টা করুন পেশাগুলোতে সুযোগ কেমন, শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন, পদোন্নতি বা অগ্রগতি কেমন, কাজের সময় কেমন, সম্মানী এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কেমন? এই বিশ্লেষণগুলো করলে আশা করা যায় পছন্দের এই পেশার তালিকাটি আরও ছোট হয়ে আসবে।
৫। পছন্দের ৩ টি পেশার একটি তালিকা করুন
এ পর্যায়ে এসে আপনার তালিকাটি আরও ছোট করে ৩ টি পছন্দের পেশা রাখার চেষ্টা করুন। নির্বাচন করতে খুব বেশি সমস্যা হলে এটা সর্বোচ্চ ৫ টি এবং সর্বনিম্ন ২ টি করা যেতে পারে। তবে এর চেয়ে বেশি বা কম করা যাবে না। এক্ষত্রে ৪ নং উপায়টিকে আবার কাজে লাগাতে পারেন।
যে পেশাগুলোতে চাওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা আপনার পুরোপুরি নেই কিংবা যে পেশাগুলোর বার্ষিক স্যালারি আপনার মনমতো না অথবা যে পেশাগুলোর কাজের চাপ খুব বেশি যা আপনি নিতে পারবেন না সেগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দিন। এতে করে দেখবেন তালিকায় পছন্দের ৩ টি পেশা আনাটা খুব সহজ হয়ে গেছে।
৬। অভিজ্ঞ কারো সাথে ইন্টারভিউয়ে অংশ নিন
সঠিক ক্যারিয়ারটি নির্বাচন করতে পছন্দের তালিকার পেশাগুলোর প্রথম ইন্টারভিউটি দেয়ার চেষ্টা করুন। সেই ব্যক্তিগুলোকে খুঁজে বের করুন যারা আপনার পছন্দের পেশাটিতে অনেক অভিজ্ঞ এবং সফল ব্যক্তি। তাদের সাথে ছোট্ট একটা ইন্টারভিউয়ে বসুন এবং কথা বলে জানার চেষ্টা করুন আপনি ঐ পেশাটির জন্য কতটুকু যোগ্য। এতে করে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।
৭। চূড়ান্ত পেশাটি নির্বাচন করুন
উপরের সব কটি পর্যায় পার হয়ে আসার পর সঠিক পেশাটি নির্বাচন করতে আপনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেছেন। যদি পছন্দের তালিকাটি এখনও বড় হয়ে থাকে তবে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোনো-ই কারণ নেই।
শুধু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন আপনি ‘কী’ করতে চান? আপনার এটা ভাবার প্রয়োজন নেই যে, আপনি যে পেশাটি নির্বাচন করতে যাচ্ছেন সেটাতেই আজীবন থাকতে হবে। যদি এটা ঠিকভাবে কাজ না করে অবশ্যই আপনি তা পরিবর্তন করে নতুন কিছু নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার সারাজীবনে অসংখ্যবার ক্যারিয়ার নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে।
৮। আপনার দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
এবারে আপনার লক্ষ্যগুলোকে দুটি শিরোনামে লিখে ফেলুন। ‘দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য’ এর তালিকায় সেই লক্ষ্যগুলোকে নির্ধারণ করুন যেগুলো আপনি ৩-৫ বছরের মাঝে অর্জন করতে চান এবং ‘স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য’ এর তালিকায় সেই লক্ষ্যগুলোকে আনুন যেগুলো ৬ মাস থেকে ৩ বছরের মাঝে অর্জন করতে চান। এরপরেই সে অনুযায়ী কাজ শুরু করে দিন।
প্রিয় পাঠক, এবার নিশ্চয়ই আপনি আপনার সঠিক ক্যারিয়ারটি নির্বাচন করতে পেরেছেন। তবে আর দেরি কেন? লেগে পড়ুন কাজে। শুধু আত্মবিশ্বাসী আর আত্ম-সচেতন হোন। সফলতা আপনার দ্বারে এসে পৌঁছাবে। শুভকামনা



