
সময় থাকতে মায়ের কথার গুরুত্ব আমরা অনেকেই দেই না। এমনকি তারা কি কি বলেন তা নিয়ে যেমন মাথা ঘামাই না তেমন সেসব কথা খেয়ালও রাখি না। কিন্তু মায়েদের এসব কথা আমাদের জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ধরনের সাতটি কথার সংকলন থাকছে এ লেখায়। অনেক সন্তানের কাছেই কথাগুলো ‘অপ্রিয়’ বলে মনে হয়। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব কথার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সন্তানরা।
১. খালি পেটে দিন শুরু করা যাবে না
সকালে নাস্তা না খেয়ে বাইরে যেতে মায়েরা নিষেধ করেন। অনেকেই এ বিষয়টি নিয়ে মায়ের সঙ্গে মান-অভিমান করেন। কিন্তু তবুও সকালে নাস্তা না খেয়ে বাইরে যেতে দিতে চান না মা। কারণ তিনি জানেন খাবার ছাড়া দেহ অচল। আর সকালে উঠে খাবার না খেলে দেহের শক্তি যোগান দেওয়া কঠিন। এ কারণেই মায়েরা এমন কথা বলেন।
২. খাওয়া শেষ করার আগে মিষ্টি নয়
অনেকেই খাবার পর মিষ্টি বা ডেসার্ট খেতে ভালোবাসেন। তবে মায়েরা এটা খাবার শেষ করার আগে সন্তানকে দিতে চান না। অন্যদিকে সন্তানরা তা মূল খাবার খাওয়ার আগেই খেতে চায়। কিন্তু আগেই মুখরোচক খাবার খেয়ে ফেললে মূল খাবার খাওয়ার রুচি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমে পর্যাপ্ত খাবারের অভাব হতে পারে দেহে। এ জন্যই এমনটা বলেন অনেক মা।
৩. অন্যরা কী করছে, তা দেখার প্রয়োজন নেই
যখনই আপনি ওমুক বন্ধু, তমুক বন্ধুর কথা বলেন তখন মায়েরা এমন জবাব দেন যে, ‘অন্যরা কী করছে, তা দেখার প্রয়োজন নেই।’ তার বদলে তিনি আপনার কাজের দিকেই মনোযোগী। তিনি আপনার ভালো-মন্দটাই দেখতে চান।
৪. তুমি অনেক বড় হয়েছ, এটা বোঝা উচিত
আপনাকে মা অনেক সময় যেমন ছোট হিসেবে দেখেন তেমন মাঝে মাঝে বড় হিসেবেই বর্ণনা করেন। অনেক মাই তার সন্তান কোনো ভুল করলে বলেন, ‘তুমি অনেক বড় হয়েছ, এটা বোঝা উচিত। ওই কাজটা করা উচিত নয়….।’ আবার অন্য ভাই-বোন থাকলে তাদের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি প্রসঙ্গেও এমন কথা বলেন তিনি।
৫. তুমি বড্ড নোংরা
মায়েরা সন্তানের জন্য যেসব কাজ করেন, তার অন্যতম হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। সন্তানরা যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে, তার কাপড়চোপড় যেন ঠিকঠাক থাকে, সে জন্য চিন্তার শেষ নেই। আর এসব চিন্তা করতে গিয়েই মায়েরা তাদের সন্তানকে বলে থাকেন, ‘তুমি বড্ড নোংরা।’ এটি অবশ্য সন্তানকে বকা দেওয়ার জন্য বলেন না তারা। এ কথা বলতে হয় সন্তান যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়, সে জন্য।
৬. তোমার মায়ের মতো কেউ এটা করবে না
সন্তানের জন্য কোনো কঠিন কাজ করে দেওয়ার পর প্রায়ই মা বলে থাকেন, ‘তোমার মায়ের মতো কেউ এটা করবে না।’ এ কথাটি যে কতখানি সত্য, তা বয়স হলে আপনি বুঝতে পারবেন। মায়ের মতো কেউই সন্তানের ভালো চাইবে না। মা কোনো প্রতিদানের আশা ছাড়াই যেমন ছোটবেলা থেকেই সন্তানের জন্য নানা কাজ করেন, তেমনটা অন্য কেউ করবে না।
৭. এত সুখ আর কখনো পাবে না
ছোট থাকতে সন্তানের প্রায় সব কাজই মা করে দেয়। সে সময় অনেক মা সন্তানকে বলেন যে, ‘এত সুখ আর কখনো পাবে না।’ অনেক সন্তানই বিষয়টি বিশ্বাস করে না। কারণ মায়ের এসব কাজকে তার কাছে কোনো বিষয় বলেই মনে হয় না। তাদের ধারণা থাকে বড় হলে অনেক সুখ-শান্তি থাকবে। কিন্তু বাস্তবে মায়ের এ কথাটির সত্যতা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তান উপলব্ধি করতে পারে। মায়ের আদরে কাটানো ছোটবেলার মতো সুখ আর কখনোই ফিরে আসে না।



