কলকাতা

“আমি ভাল আছি,চিন্তা করবেন না”, আমেরিকা থেকে প্রিয় নিরাপত্তারক্ষী ‘আলি ভাইকে’ জানালেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন

“আমি ভাল আছি,চিন্তা করবেন না”, আমেরিকা থেকে প্রিয় নিরাপত্তারক্ষী ‘আলি ভাইকে’ জানালেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন - West Bengal News 24

 

বস্টন: আমেরিকায় এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সবথেকে বেশি। ক্রমশই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা। আর তাই কলকাতাতে বসে নিয়মিত অফিস করলেও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের জন্য চিন্তা ক্রমশই বাড়ছিল। কেননা এই মুহূর্তে অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে। তাই নিজেকে আটকাতে না পেরেই কলকাতা থেকেই প্রিয় ‘স্যারকে’ ফোন করে তার খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করেন তারই পিএসও আলি ভাই।

প্রথমে ফোন করে উত্তর না পেলেও একটি এসএমএস করেন প্রফেসর সেন কে। তারপর কয়েকদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন থেকেই আলি ভাইয়ের কাছে ফোন আসে প্রিয় স্যার অর্থনীতিবীদ অমর্ত্য সেনের।যদিও সেই সময়ে নিজের কাজেই ব্যস্ত ছিলেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের এই অফিসার। দুজনের মধ্যে মিনিট খানেকের কথাও হয়। প্রথমেই ফোন করে আলী ভাইয়ের থেকে অধ্যাপক সেন জানতে চান ” নমস্কার আপনি আছেন কেমন?” তখন ফোনের এপার থেকে প্রিয় আলী ভাই বলেন ” আপনার জন্য খুব চিন্তা হচ্ছিল।

তাই আপনাকে এসএমএস করেছিলাম।” এই কথা শোনার পর ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে অধ্যাপক সেনের উত্তর, ” আমি ভালই আছি।”তখন স্পেশাল ব্রাঞ্চের এই অফিসার জানতে চান ” স্যার আপনি বাইরে বের হচ্ছেন না তো?” তার উত্তরে অধ্যাপক সেন হাসতে হাসতে বলেন ” না না আমি বাইরে বেরোচ্ছি না। এখানে যা অবস্থা হয়ে রয়েছে! খুব ভাল লাগল আপনার সঙ্গে ফোনে কথা বলে।”

এখানেই অবশ্য কথা শেষ করেননি অধ্যাপক সেন। আলী ভাইয়ের পরিবার সম্পর্কেও জানতে চান তিনি। বস্টন থেকে তিনি জানতে চান ” আপনার বাড়িতে সবাই ভালো আছে তো? সাবধানে থাকবেন আপনারা।” তখনই অফিসার জানান ” হ্যাঁ স্যার আমরা ভালই আছি।ঘরবন্দি হয়ে রয়েছি। তবে আমাকে ডিউটি তো করতে হচ্ছেই।” তখন ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে অধ্যাপক সেন বলেন ” সাবধানে থাকবেন। আপনার সঙ্গে আবার দেখা হবে ।”

ফোনের এই কথোপকথন বলার সময় নিজের উদ্বেগ চেপে রাখতে পারছিলেন না স্পেশাল ব্রাঞ্চের এই অফিসার।কথোপকথন প্রসঙ্গে তিনি বলেন ” কি করব? স্যারের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছিল। তাই নিজেকে চেপে রাখতে না পেরে স্যারের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আমি জানতাম স্যার আমাকে ঠিক ফোন করবেন। স্যারের ফোনটা পেয়ে আমার মনটা একটু শান্ত হল।”“আমি ভাল আছি,চিন্তা করবেন না”, আমেরিকা থেকে প্রিয় নিরাপত্তারক্ষী ‘আলি ভাইকে’ জানালেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন - West Bengal News 24

১৯৯৮ সালে নোবেল জয় করে অমর্ত্য সেন কলকাতায় আসার পরে তার পিএসও( পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার) করে পাঠানো হয়েছিল আলি করম্উল্লাকে। তখন থেকেই দুজনের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাই কলকাতাতে আসার কথা থাকলেই স্পেশাল ব্রাঞ্চের এই অফিসার কেই অধ্যাপক অমর্ত্য সেন ফোন করেন। অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের কাছে স্পেশাল ব্রাঞ্চের এই সিকিউরিটি অফিসার আলি ভাই হিসেবেই পরিচিত। আলি করম্উল্লার পরিবারের সঙ্গেও পরিচয় রয়েছে অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের। তার পরামর্শ মতোই মেয়েকে দর্শন নিয়ে পড়াচ্ছেন এই পুলিশকর্মী।

তবে শুধু অধ্যাপক সেন নন, এই পুলিশ কর্মী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু,বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবেও কাজ করে গেছেন। এটাই নয় কলকাতাতে কোন ভিভিআইপি ঢুকলে ডাক পড়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চের এই অফিসার মহম্মদ আলি করম্উল্লার। এমনকি সদ্য নোবেল জয় করে কলকাতায় অভিজিত্‍ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় আসার পরও এই অফিসারেরই ডাক পড়েছিল। অধ্যাপক সেনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠায় তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সবসময় চিন্তিত থাকেন এই স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসার।

আমেরিকা জুড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হবার পর থেকেই চিন্তিত ছিলেন এই পুলিশকর্মী।এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আলী করম্উল্লা বলেন “আমি সবসময়ই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস এর সংক্রমণের খবর নজর রাখছিলাম। যেদিন সব থেকে বেশি একদিনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পেলাম সেদিন স্যারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলাম। তবে স্যার আমাকে জানিয়েছেন উনি ভাল আছেন এটাই আমার কাছে একটা মানসিক শান্তি।”

সুত্র: News18

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য