নিউজার্সিতে রহস্যমৃত্যু ভারতীয় দম্পতির! ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর, নদী থেকে মিলল তাঁর স্বামীর দেহ

ভারতীয় দম্পতির রহস্যজনক মৃত্যু নিউ জার্সির ফ্ল্যাটে! পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, ৩৫ বছরের ভারতীয় তরুণী গরিমা কোঠারিকে খুন করা হয়েছে বলে অনুমান পুলিশের। তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে দিন কয়েক আগে। এর পরেই পাওয়া গিয়েছে তাঁর স্বামীর দেহও। আপাত ভাবে মনে করা হচ্ছে, হাডসন নদীতে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। নিউ জার্সির হাডসন প্রদেশের পুলিশ জানিয়েছে, ২৬ এপ্রিল গরিমার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর ঊর্ধ্বাঙ্গ রীতিমতো ক্ষতবিক্ষত ছিল। ময়না-তদন্তের পরে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এটা খুনেরই ঘটনা। তাঁকে উপর্যুপরি আঘাত করে মারা হয়েছে। একইসঙ্গে জানা গেছে, ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি।
গরিমার স্বামী, ৩৭ বছরের মনমোহন মলের দেহ উদ্ধার হয় হাডসন নদী থেকে। পুলিশের ধারণা, আত্মহত্যা করেছেন তিনি। যদিও ময়না-তদন্তের রিপোর্ট না আসা অবধি এখনও কিছু নিশ্চিত করে বলেনি পুলিশ।
জানা গেছে, গরিমা কোঠারি পেশায় একজন শেফ ছিলেন। রন্ধনজগতে তাঁর সুখ্যাতিও ছিল। মনমোহন মল আইআইটি থেকে পাস করে আমেরিকায় এসেছিলেন, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করিলেন। তাঁদের দু’জনের একটা রেস্তরাঁও ছিল। নাম ‘নুক্কড’। নিউ জার্সিতে তাঁরা যেখানে থাকতেন, তার কাছাকাছিই ছিল রেস্তরাঁটি। রেস্তরাঁর এক কর্মীর কথায়, ‘ওঁরা খুবই খুশি ও সুখী দম্পতি ছিলেন। দেখে তাই মনে হতো সব সময়।’
মনমোহনের পরিবার সূত্রের খবর, তিনি তাঁর কেরিয়ারে খুবই প্রতিভাবান বলে পরিচিত। একই সঙ্গে সকলকে যত্ন করতে পারারও গুণ ছিল তাঁর। গরিমাকেও দক্ষ শেফ হিসেবেই চিনতেন সকলে। মনমোহনের পরিবার এও বলেছেন, গরিমা খুবই হাসিখুশি মেয়ে, নিজের কাজের প্রতিও খুব সিরিয়াস ছিলেন। কেন, কারা খুন করল গরিমাকে, সেই খুনের সঙ্গে মনমোহনের যোগ আছে কিনা, মনমোহনই বা কেন আত্মহত্যা করলেন- এই সবটাই ঘন ধোঁয়াশা পুলিশের কাছে।
এখনও কোনও সূত্র, কোনও ক্লু তারা পায়নি বলেই জানিয়েছে। তাঁদের কারও সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা বা অশান্তির খবরও নেই সাম্প্রতিক অতীতে। কী থেকে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল, আন্দাজ করতে পারছেন না কেউ।
সুত্র: THE WALL



