আমি কার্ফু বলছি না, সন্ধে সাতটার পর বাড়িতে মুক্তমনে থাকুন:মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ওয়েবডেস্ক : গতকাল, রবিবার লকডাউনের চতুর্থ দফার দিনক্ষণ ও বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ৩১ মে পর্যন্ত সন্ধে সাতটা থেকে সকাল সাতটা এই সময়ে সারা দেশে ‘নাইট কার্ফু’ চলবে। কেন্দ্রের সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার একে কার্ফু বলছে না।
তা হলে কী বলছে?
সোমবার বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি এটাকে কার্ফু বলছি না। আমরা বলছি সন্ধে সাতটার পর বাড়িতে থাকবেন, মুক্ত মনে থাকবেন। বাইরে বেরোবেন না।”
কার্ফু শব্দটিতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “মানুষকে দমবন্ধ করে রাখা ঠিক নয়। আমরা সরকারি ভাবে কার্ফু ঘোষণা করছি না। খুব ইমার্জেন্সি ছাড়া কার্ফু বলা যায় না।”
ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কার্ফু শব্দটা শুনলেই মানুষের মনে একটা চাপ তৈরি হয়। তাঁর কথায়, “সাম্প্রদায়িক হানাহানির মতো ঘটনার সময়েই একমাত্র কার্ফু বলা হয়।” সাংবাদিক বৈঠকের শেষ পর্যায়ে অন্য কথার প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী একবার কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেন, “কথায় কথায় খালি বুলডোজ করা, কার্ফু আর জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা! এটা ঠিক না।”
কেন্দ্রের গাইডলাইনে পষ্টাপষ্টি বলা হয়, খুব প্রয়োজন ছাড়া ওই ১২ ঘণ্টা কেউ বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না। খুব প্রয়োজনীয় কাজ কী কী তাও তালিকা করে দিতে পারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ৬৫ বছরের বেশি এবং ১০ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের ওই সময়ে বাড়ির বাইরে বেরোনো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চাইলে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারাও জারি করতে পারে।
নাইট কার্ফু নিয়ে এমন ব্যাখা দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “এমনি কার্ফু আর নাইট কার্ফুর ফারাক বোঝার বোধ মুখ্যমন্ত্রীর নেই। কেন্দ্রীয় সরকার কার্ফু শব্দটিকে ব্যবহার করে সন্ধের পর লকডাউনকে আরও কঠোর ভাবে প্রয়োগ করতে চেয়েছে।
কারণ বাংলা-সহ দেশের প্রায় সব রাজ্যেই দেখা যাচ্ছে একশ্রেণির উশৃঙ্খল মানুষ সূর্য ডুবলেই জটলা করছেন মহল্লায় মহল্লায়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আরও অক্সিজেন জুগিয়ে দিলেন। আইন ভাঙতে উস্কানি দিলেন।”
লকডাউন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লা সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যে যে ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে, রাজ্যগুলি চাইলে তার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের গাইডলাইনে যে যে বিষয়ে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে, রাজ্যগুলি কোনও ভাবেই তা লঘু করতে পারবে না।
মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য কোনওভাবেই এদিন লকডাউনের শর্ত লঘু করার কথা বলেননি। বরং কার্ফু শব্দের ব্যবহার না করলেও মানুষকে সেই নিয়মই মেনে চলার কথা বলেছেন। এমনকি এও বলেছেন যে, এমন কিছু করবেন না যে সরকার কোনও ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।
অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মন। তাঁর কথাতেই পরিষ্কার যে মুখ্যমন্ত্রী মনে করছেন, কার্ফু শব্দটা নেতিবাচক। তা মানুষ পছন্দ করে না। কেন্দ্র কার্ফু জারি করলেও রাজ্যকেই তা বলবৎ করতে হবে।
সুতরাং এজন্য মানুষের মনে কোনও উষ্মা তৈরি হলে তার দায় রাজ্যের সরকারের উপরেই এসে পড়বে। সম্ভবত এই ভাবনা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এদিনের প্রেস কনফারেন্সে বারবার বলেছেন, কেন্দ্রের সরকার লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশেই লকডাউন চালিয়ে যেতে হচ্ছে ইত্যাদি।
সুত্র: THE WALL



