
ওয়েবডেস্ক: কলকাতা, এবার মদের হোম ডেলিভারির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামল ফরওয়ার্ড ব্লকের যুবলীগ। মঙ্গলবার আবগারি দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন সংগঠনের সদস্যরা।
সংগঠনের অভিযোগ, একদিকে লকডাউন অন্যদিকে আমফানের মতো জোড়া সমস্যায় জর্জরিত মানুষ। এই পরিস্থিতিতে মদের হোম ডেলিভারির মতো সিদ্ধান্ত অনৈতিক।
সংগঠনের নেতা সুদীপ বন্দোপাধ্যায় বলেন, “লকডাউনে রেশন দোকান থেকে মাল নেওয়ার সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রস্তাব ছিল রেশনের হোম ডেলিভারি চালু করুক সরকার।
পরে দেখছি রেশনের বদলে মদের হোম ডেলিভারি চালু করার নীতি নিল।”এদিন বেলা ৩ টের সময়, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের রাজ্য আবগারি ডাইরেক্টটরেটে মদের হোম ডেলিভারি চালু করার প্রতিবাদে কমিশনারের কাছে বিক্ষোভ ডেপুটেশন সংগঠিত করা হয়।
রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছে ফরওয়ার্ড ব্লকের যুবসংগঠন। এদিনের কর্মসূচি তারই অঙ্গ। যুবলীগের নেতা সুদীপ বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “আমরা মদমুক্ত বাংলা চাই।
আজ গোটা দেশে করোনার প্রকোপ। এই পরিস্থিতিতে মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে বিভক্ত। এক শ্রেণীর মানুষ আজ শুধুমাত্র খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। অন্যজন দাঁড়াচ্ছেন মদ কেনার জন্য! সমাজে মদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক। বিজ্ঞান বলছে তিন পেগ মদ খেলে এক ঘণ্টা কমে।

দ্যা ল্যনসেট পাবলিক হেলথ গবেষনায় উঠে এসেছে, মদ্যপানের কারণে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বহু মানুষ। এছাড়াও মদের কারণেই আইন শৃঙ্খলার অবনতি। তার প্রমাণ বিহার।” এর আগে লকডাউন চলাকালীন মদের কালোবাজারির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন সংগঠনের সদস্যরা।
মদের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী ও লাগাতার আন্দোলনে নামার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল করার জন্য ইতিমধ্যেই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন সংগঠনের নেতৃত্ব।
তাদের বক্তব্য, “মদের নেশার কারণে বহু পরিবার শেষ হয়ে যায়। বিশেষ করে বহু গরিব মানুষ রোজগারের একটা বড় অংশই মদের পিছনে খরচা করে ফেলেন। ফলে বঞ্চিত হয় পরিবারের লোকেরা। পারিবারিক অশান্তিরও সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও মদ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও! অর্থনৈতিক, সামাজিক সমস্যার পাশাপাশি এটা একটা পারিবারিক সমস্যা। এর শিকার সবচাইতে বেশি হন মহিলারা । তাই এই আন্দোলনে মহিলাদের যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।”
সুত্র: News18



