রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালে ঘুরেও মিলল না চিকিত্সা,অবশেষে মৃত্যু করোনা আক্রান্ত তরুণের !

ওয়েবডেস্ক :: সন্তান করোনা আক্রান্ত। বাড়ছিল অসুস্থতা। তাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরের বাসিন্দা ওই তরুণকে নিয়ে একের পর এক সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে যান তাঁর বাবা-মা। তবে সন্তানকে ভরতি করাতে পারেননি। পরে রাতে মৃত্যু হল ওই তরুণের।
আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই তরুণ। শ্বাসকষ্ট হতে শুরু করে। তাঁকে কামারহাটির ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেই সময় তরুণের রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যন্ত বেশি ছিল। তাই তাঁর সেখানে চিকিত্সা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান
তাঁরা। তবে সেখানেও চিকিত্সার জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় নার্সিংহোমে ওই তরুণের করোনা পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্টে করোনার প্রমাণ মেলায় তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি নিতে অস্বীকার করে।
এরপর তাঁরা আবারও কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে যান। সেখান থেকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে যেতে বলা হয় তাঁদের। সেখানে যান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়ে দেয় বেড নেই। এরপর আবারও কামারহাটির ইএসআই হাসপাতালে ফিরে যান তাঁরা।
এরপর লালবাজারে যোগাযোগ করেন তাঁরা। পুলিশের সহযোগিতায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে তরুণকে নিয়ে আসা হয়। তবে সেখানেও জানিয়ে দেওয়া হয় বেড নেই। তরুণের মায়ের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তর্কাতর্কি শুরু হয়। সন্তানের চিকিত্সা না হলে আত্মহত্যার হুমকি দেন ওই মহিলা।
তারপর স্ট্রেচারে করে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে সেই সময় কোনও স্বাস্থ্যকর্মী তাঁদের সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ। তবে রাতেই মৃত্যু হয় ওই তরুণের। পরিবারের অভিযোগ, সঠিক সময়ে চিকিত্সা হলে হয়তো সন্তান প্রাণে বেঁচে যেত।
আরও পড়ুন : ‘রাজনীতি করলেও টপে যাবে সৌরভ’, জন্মদিনে জল্পনা উস্কে দিলেন ডোনা
বারবার রোগী প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ সামনে এসেছে। কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তা সত্ত্বেও সমস্যা যে পুরোপুরি মেটেনি ইছাপুরের তরুণের মৃত্যুই বোধহয় তা প্রমাণ দিল।
সুত্র: সংবাদ প্রতিদিন



