অপরাজিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে উনিশ বছর পার করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ১৯ বছর কাজের রেকর্ড এবার নরেন্দ্র মোদির ঝুলিতে। বুধবারই এই মাইলফলক ছুঁলেন প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি হিসেবে কুড়িতে পা রাখলেন। দলমত নির্বিশেষে সকলেই এক বাক্যে মেনে নিচ্ছেন এই কুড়ি বছরের তাঁর পরিশ্রম জাতীয় স্তরে তাঁর দলকে অন্য জায়গা দিয়েছে।
৭ অক্টোবর ২০০১, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আরোহন করেন। তার পর থেকে পিছনে ফিরে তাকানোর কোনও রেকর্ড নেই। ক্রমেই রাজ্য রাজনীতি ছাড়িয়ে পৌঁছেছেন জাতীয় রাজনীতির বিরাট অঙ্গনে। ২০১৪, ২০১৯ দু’দফায় তাঁর নেতৃত্বেই দেশে সরকার গড়েছে গেরুয়া বাহিনী।
রাজনৈতিক পরিসংখ্যানবিদরা একমত, ২০০১-২০২০ নরেন্দ্র মোদির ঝুলিতে একটিও হারের রেকর্ড নেই। তাঁরা কায়মনোবাক্যে মানছেন এমন কেরিয়ার দেশকালের সীমা ভেঙে যে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরই স্বপ্ন।
গুজরাটে নরেন্দ্র মোদি জনপ্রিয়তা বেশ কয়েকটি পেয়েছিলেন সংস্কারে হাত ধরে। এর মধ্যে প্রথমেই আসবে বিদ্যুত্ সংস্কার প্রসঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মানুষ মাত্রেই জানেন বিদ্যুত থাকা না থাকা কী ভাবে সরকার পরিবর্তনে ভূমিকা নিতে পারে। মোদি অবশ্য বিদ্যুতকে তাস করেননি সরাসরি।
আরও পড়ুন: ফের হাথরস, ‘ধর্ষিত’ শিশুর মৃত্যু
ক্ষমতায় এসেই গুজরাটের প্রান্তিক অঞ্চলগুলিতেও বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এর পর শুরু হয় বিনিয়োগ টানা। দু এক বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের পাখির চোখ হয়ে ওঠে গুজরাট। হাত ধরাধরি করে এগোতে থাকে কৃষি ও শিক্ষা।
এই সময়ে গুজরাটের মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থায় আরও বেশি করে নিয়ে আসার জন্য শুরু হয় কন্যা কল্যাণী প্রকল্প। গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রচার চালাতে থাকেন মোদি। ফলও মেলে রাতারাতি।
শুরু হয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জয়যাত্রা। বিতর্ক থেকেছে। আবার সাফল্যও এসেছে। নোটবন্দি নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়েছে। তবে বিশ্বমানচিত্রে ভারতের মুখ অনেক বেশি স্পষ্ট হয়েছে এই জমানায় মনে করেন কূটনৈতিকরা।
পাশাপাশি জিএসটি সংস্কার, আয়ুস্মান ভারত, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, তিন তালাক আইন রদ, স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে হাতিয়ার করে দ্বিতীয় দফাতেও সিংহাসনে আরোহন করেছেন তিনিই।
ভক্তরা বলছেন, যে পরিমাণ জনপ্রিয়তা নরেন্দ্র মোদি গত কুড়ি বছরে অর্জন করলেন, তার ফল তিনি ভোগ করতে পারেন কমপক্ষে আগামী এক দশক।
সুত্র: News18



