ক্ষীণ হয়ে আসছে সৌমিত্রের বেঁচে থাকার আশা

গত ৪০ দিন কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় মিন্টো পার্কের পাশে বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারপরেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয় নি। বরং গত ৪৮ ঘণ্টায় শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। অভিনেতার পরিবারের সদস্যদের সবটাই জানানো হয়েছে। চিকিৎসকরা সব রকম লড়াই চালিয়েছেন,তবুও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি তো হয়ই নি, বরং আরও অবনতি হয়েছে।
শনিবার বিকেলে অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অরিন্দম কর জানান, ” আমরা সব রকম প্রচেষ্টা চালালেও চিকিৎসায় প্রায় কোনও সাড়া দিচ্ছেন না সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ৪০ দিন হাসপাতালে থাকার পরও তাঁর শারীরিক অবস্থা যা, তাতে তাঁকে মিরাকেল ছাড়া সুস্থ করে তোলা একপ্রকার অসম্ভব।”
আরও পড়ুন : তৃতীয় বিয়েও টিকল না! নিন্দুকদের কটূক্তি সহ্য করতে না পেরে এই সিদ্ধান্ত নিলেন শ্রাবন্তী
করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম কয়েকদিন সৌমিত্রর শারীরিক অবস্থার লক্ষ্যনীয় উন্নতি হয়েছিল। হঠাৎ করেই দিন পাঁচেক পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। প্রথমে আই টি ইউ, পরে ভেন্টিলেশনে দিতে হয়। মস্তিষ্কে সংক্রমণ কোনওমতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। বরং কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দিতে থাকে। শুরু হয় ডায়ালিসিস। কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি হয় নি। এমনকী তাঁর হিমোগ্লোবিন এবং প্লেটলেট মাঝে মধ্যেই কমে যেতে থাকে। বারবার করে রক্ত দিয়েও অবস্থার খুব একটা উন্নতি না হওয়ায় প্লাসমাফেরেসিস বা প্লাসমা শোধন করা হয়। প্রাথমিক ভাবে উন্নতি নজরে আসলেও গতকাল দুপুরে তাঁর শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি হয়।
শুক্রবার দুপুরের পর থেকে অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। হার্ট স্বাভাবিক ভাবে কাজ করা বন্ধ করে। হার্ট রেট অনেকটাই বেড়ে যায়, অনেকটা কমে যায় রক্তচাপ । ভেন্টিলেশনে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে হয়। মস্তিষ্কে স্নায়ুর সাড়া দেওয়ার সূচক গ্লাসগো কোমা স্কেল অনুযায়ী ৫ এ পৌঁছে যায় যা স্বাভাবিক 15 এবং তা যদি ৩- এ নেমে যায়, তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়।



