
ইন্টারনেটের আমরা যে অংশটি দেখি তা মূলত উপরিতল। এর আড়ালে রয়েছে ইন্টারনেটের বহু অংশ, যা আমাদের চোখে পড়ে না। সম্প্রতি হলিউডের সিনেমাতেও এ ‘ডিপ’ বা ‘ডার্ক ওয়েব’-এর বিষয়গুলো উঠে আসছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
‘ডিপ ওয়েব’ নামে নতুন এক ডকুমেন্টারির দৃশ্যেও উঠে এসেছে ইন্টারনেটের গভীরতার বিষয়টি। এতে অনলাইনের বহু অপকর্মের কেন্দ্র ‘সিল্ক রোড’-এর প্রতিষ্ঠাতা রস উলব্রিচের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
ইন্টারনেটে সাধারণ মানুষ যা ব্যবহার করে তাকে ‘সারফেস’ বা উপরিতল বলা হয়। এতে গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজন, ইবে কিংবা অনুরূপ সাইটগুলো রয়েছে। তবে সারফেস ওয়েবের ক্ষেত্রে গুগল চার থেকে ১৬ ভাগ পর্যন্ত সার্চের মাধ্যমে পেয়ে যায়।
সারফেস ওয়েবের নিচে রয়েছে ‘ডিপ ওয়েব।’ এতে রয়েছে পরিত্যক্ত ওয়েবসাইট, বন্ধ করে রাখা ওয়েবসাইট, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেজ, সরকারি ডেটাবেজ ও অন্য কিছু ওয়েবসাইট।
‘ডার্ক ওয়েব’ হিসেবে আরও রয়েছে গোপনে কার্যক্রম পরিচালিত হয় এমন সব ওয়েবসাইট। এগুলোতে বিক্রি হয় বেআইনি ওষুধ ও মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, নকল বা জাল অর্থ, চুরি করা জিনিসপত্র, নকল বিভিন্ন সার্টিফিকেট ও অবৈধ পাসপোর্ট। এ ছাড়াও রয়েছে আততায়ী ভাড়া করার ব্যবস্থা, অনলাইনে পর্নোগ্রাফি, শিশু পর্নোগ্রাফি এবং কারো পরিচয় বিক্রি করার ব্যবস্থা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন-শৃঙ্ক্ষলা রক্ষা বাহিনী অনলাইনের এসব অন্ধকার দিক বন্ধ করতে তৎপর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে অপকর্মের জন্য বিখ্যাত সাইট ‘সিল্ক রোড’ বন্ধ করে এবং এর মালিককে গ্রেপ্তার করে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অনলাইনে শিশুপর্নোগ্রাফির মতো বিষয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে লড়ছে। এজন্য তারা দায়ী বহু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনেছে। তার পরেও অনুরূপ আরও অসংখ্য সাইট অনলাইনে অপকর্ম করে যাচ্ছে।



