রাজধানীতে গত ৩৩ দিনে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজারের নিচে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর তাণ্ডব দেখেছে দিল্লি। শ্বাসবায়ুর জন্য রোগীদের হাহাকার সয়েছে। এবার কিছুটা হলেও অন্ধকারে আশা দেখা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দশ হাজারের নীচে নেমে গেছে। সেই এপ্রিলের ১০ তারিখের পরে প্রথম কোভিড কার্ভ নামতে দেখা গেছে। আরও একটা স্বস্তির খবর হল সংক্রমণের হার কমেছে। সংক্রমিত রোগীদের থেকে সুস্থ হয়ে ওঠাদের সংখ্যা বেশি। ২০ এপ্রিল।
দিল্লিতে একদিনে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছিল ২৮ হাজারে। খবরের শিরোনামে বেরিয়েছিল, সব রেকর্ড ভেঙে রাজধানীতে ফের সংক্রমণ উর্ধ্বে উঠেছে। এরপরে লাগাতার সংক্রমণের হার বেড়েছে দিল্লিতে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কোভিড পজিটিভ রোগী সংখ্যা। ২২ এপ্রিল দিল্লির স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছিল, রাজধানীতে কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার পৌঁছে গেছে ৩৬ শতাংশে, যা জাতীয় গড়ের থেকেও বেশি। চিন্তায় মাথায় হাত পড়েছিল স্বাস্থ্যকর্তাদের। কিন্তু এখন সংক্রমণের সেই আগ্রাসী চেহারাটা বদলাচ্ছে বলেই দাবি করেছেন তাঁরা।
কেজরিওয়াল বলছেন, গত দশ দিনে দিল্লির বিভিন্ন কোভিড সেন্টারে প্রায় ১০ হাজার বেড খালি হয়ে গেছে। যার অর্থ হল, অনেক দ্রুত কোভিড রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠছেন। একটা সময় খালি বেডের জন্য হাহাকার ছিল রাজধানীতে। বড় বড় হাসপাতালগুলিতেও ঠাঁই মিলছিল না। বিনা চিকিত্সায় ফিরে যেতে হচ্ছিল রোগীদের। এমনও দেখা গিয়েছিল, নয়ডা থেকে আসা একজন ইঞ্জিনিয়ার তরুণী কোভিড বেড না পেয়ে শ্বাসকষ্টে গাড়িতেই প্রাণ হারিয়েছেন। অক্সিজেনের অভাবে দিল্লির কয়েকটি হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, এখন কোভিড বেড ও অক্সিজেনের সঙ্কট নেই দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় সরকারও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করেছে বলে দাবি তাঁর। কেজরিওয়াল আরও বলছেন, দিল্লিতে এখন আইসিইউ বেড বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীদের জন্য অক্সিজেন বেড তৈরি করা হচ্ছে। বিনা চিকিত্সায় যাতে কারও মৃত্যু না হয় সে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে করোনা ভ্যাকসিনের অভাব রয়েছে দিল্লিতে। কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ডের পর্যাপ্ত ডোজ পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর দাবি, কেন্দ্র সঠিক পরিমাণে টিকার ডোজ পাঠালে তিন মাসের মধ্যে গোটা দিল্লিবাসীর টিকাকরণ সম্পূর্ণ করবেন তিনি।
মাসে যদি ৮৫ লক্ষ করেও টিকা ডোজ পাওয়া যায়, তাহলেই সকলকে দুটি করে ডোজ দেওয়া সম্ভব হবে। দিল্লির অন্তত ১০০টি স্কুলে ভ্যাকসিন সেন্টার বানিয়ে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। কেজরিওয়াল বলছেন, আর কিছুদিনের মধ্যে ভ্যাকসিন সেন্টারের সংখ্যা ৩০০ ছাড়াবে। আরও বেশিজনকে টিকা দেওয়া যাবে। কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসার আগেই টিকাকরণে গতি আনা হবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র : দ্য ওয়াল



