
নারদকাণ্ডে বাড়ল ধোঁয়াশা। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্জশিটের শিরোনামেই রয়েছে মুকুল রায়ের নাম। জানা যাচ্ছে, নারদকাণ্ড নিয়ে আদালতে সিবিআই যে চার্জশিট জমা দিয়েছে তার শিরোনামেই রয়েছে বিজেপি নেতা খোদ মুকুল রায়ের নাম। শিরোনামে লেখা রয়েছে, সিবিআই বনাম মুকুল রায় ও অন্যান্যরা। আর এখানেই উঠছে প্রশ্নচিহ্ন। তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, চার্জশিটে নাম থাকা সত্বেও কেন মুকুল রায়কে গ্রেফতার করা হলো না?
যদিও সিবিআই ব্যাখ্যা দিয়ে চার্জশিটে জানিয়েছে, মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী, অপরুপা পোদ্দার, সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়দের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এখনও। পাশাপাশি সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও তাতে এখনও সম্মতি পাওয়া যায়নি।
এদিকে আজই কলকাতা হাইকোর্টে নারদ মামলায় ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়দের। এদিন ধৃতদের একদিকে যেমন জামিন মামলার শুনানি হবে তেমনি অন্যদিকে, এই নারদ মামলা ভিন রাজ্যে স্থানান্তরীত করা হবে কি না তার শুনানিও হতে পারে এদিন। এদিকে ফিরহাদ হাকিম প্রেসিডেন্সে জেলে থাকলেও বাকি তিন নেতা কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার নারদ মামলায় অভিযুক্ত চার হেভিওয়েট নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গ্রেফতার করে সিবিআই। এরপর তাঁদের জামিন দেয় কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে সিবিআইয়ের তরফে কলকাতা হাইকোর্টে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল এবং বিচারপতি অরিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ ওই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয়।
চারজনের হয়েই শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া ভার্চুয়াল শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবি ও পশ্চিমবঙ্গের নব নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্য অভিষেক মনু সিংভি এবং আইনজীবি সিদ্ধার্থ লুথরা। এদিকে এদিন কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির আগেই নিজেদের বক্তব্য জানানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সিবিআই। এমনটাই সূত্রের খবর।
এই মামলাকে ভিন রাজ্যে সরানোর বিষয়েও তারা সওয়াল করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে রোজভ্যালি কান্ডে মামলা ওডিশার ভূবনেশ্বরে সরানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে নারদ মামলা অসমের গুয়াহাটিতে সরানো হতে পারে বলেও ওয়াকিবহল মহলের একটি অংশ মনে করছেন। এদিকে গত সোমবার এই মামলার যাবতীয় ঘটনা সমৃদ্ধ ভিডিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে সিবিআই পাঠিয়ে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্র : প্রথম কলকাতা



