জাতীয়

হাসপাতালের বিল ৩০ লক্ষ! ২ সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত দুই ছেলে, সরকারের দ্বারস্থ বৃদ্ধ বাবা

হাসপাতালের বিল ৩০ লক্ষ! ২ সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত দুই ছেলে, সরকারের দ্বারস্থ বৃদ্ধ বাবা - West Bengal News 24
প্রতীকি ছবি

করোনা আক্রান্ত হয়ে দুই ছেলে দু’টি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। চিকিত্‍সা চলেছে। সেরেও উঠছিলেন তাঁরা। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই যেন ঝড় বয়ে গেল। ঠিক দু’সপ্তাহের ব্যবধান। তাতেই দুই ছেলেকে হারালেন জেপিএস কালরা। তারপর নার্সিংহোম থেকে হাতে ধরানো হল ৩০ লাখের বিল।

সবমিলিয়ে উথাল-পাথাল অবস্থা। এর জন্য কাকে দোষ দেবেন, কার দ্বারস্থ হবেন— কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না তিনি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে চণ্ডীগড়ে সংক্রমণ বাড়ছে। এর থেকে রেহাই পাননি কালরাও। গত এপ্রিলেই সপরিবার কোভিডে আক্রান্ত হন তিনি। দুই ছেলে, স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনি— সকলেই পজিটিভ।

আর সবাই ধীরে ধীরে সেরে উঠলেও তাঁর ছেলে হরপাল (৪৪) ও সর্বজিত্‍ (৪১)-এর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বাধ্য হয়ে তাঁদের জ্ঞানসাগর মেডিক্যাল কলেজ ও মায়ো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কালরা জানান, হরপালের নিজের স্টেশনারি দোকান রয়েছে। অন্যদিকে সর্বজিত্‍ বাবার কাপড়ের ব্যাবসা দেখেন।

বিয়ে করে তাঁরা সংসারও পেতেছেন। কিন্তু ১৪ দিনের মধ্যে সব স্বপ্ন এভাবে মিলিয়ে যাবে, সেটা কেউই কল্পনা করেননি। আশার আলো দেখার অনেক কারণ ছিল। নাতিপুতিরা সেরে উঠেছে। স্ত্রীও বয়স হওয়া সত্ত্বেও কোভিডকে জিতে উঠলেন। পুত্রবধূও হোম আইসোলেশনে থেকে সুস্থ। অন্যদিকে কালরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু ৬ মে তিনি নিজেও করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। ঘরের ছেলে দু’টো ঘরেই ফিরবে। খুব তাড়াতাড়ি সংসার ফের ভরে উঠবে।

এমনটাই ভেবেছিলেন সকলে। কিন্তু হঠাত্‍ করে যেন মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে। ৯ মে খবর আসে, হরপাল মারা গেছেন। চোখের জল মুছতে মুছতে সেদিনের কথা মনে করে কালরা বলেন, ‘ভেবেছিলাম ওকে আবার দেখতে পাব। এমনটা হবে, সেটা কখনও কল্পনা করিনি। একজন বাবা বেঁচে থাকতে তাঁর দুই ছেলেই মারা যাচ্ছে। এর চেয়ে দুঃখের কিছু হয় না।’ তবু সর্বজিত্‍ ছিলেন। ২২ মে তাঁর কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। অনেক হতাশা আর যন্ত্রণার মধ্যে কিছুটা হলেও আশার রেখা। কিন্তু সেটাও মিলিয়ে যায়।

পরদিন সরবজিতের মৃত্যু হয়। অঙ্ক কিছুতেই মেলাতে পারছেন না কালরা। হাসপাতালের চিকিত্‍সকরা বলছেন, ছেলে সুস্থ। রিপোর্ট নেগেটিভ। পুরোপুরি নিশ্চিত হতে ফুল বডি চেক আপও করানো হয়েছিল। পরিষেবা আরও ভাল পেতে ফর্টিসের মতো নামকরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবু মৃত্যু ঠেকানো গেল না? কালরা জানান, মায়ো নার্সিংহোম যখন বলছে, সর্বজিত্‍ সুস্থ, তখন সেইদিনই ফর্টিসের ডাক্তাররা জানান, তাঁর ফুসফুস পুরোপুরি সংক্রামিত হয়েছে। বাঁচানোর সম্ভাবনা খুব কম। কারণ যাই হোক, মাশুল গুনেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী তাঁর গোটা পরিবার। কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা যাতে আর কারও না হয়, তার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে বলেছেন কালরা। কেন্দ্রের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘আমার মনে হয়, এবার সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এখন দুর্যোগ চলছে। আর বেসরকারি হাসপাতালগুলি এর ফায়দা নিচ্ছে। কী করতে হবে, সেটা তারা অনেক সময়ই জানে না। অথচ লম্বা বিলের ফর্দ তৈরি করে ফেলে। জ্ঞানসাগর হাসপাতাল তবু চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মায়ো নার্সিংহোম আমার ছোট ছেলের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করেছে।’

বিতর্কের মুখে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছে দু’টি হাসপাতালই। সরকারি গাইডলাইন মেনে কাজ করা হচ্ছে বলে দায় এড়িয়েছে তারা। কিন্তু জেপিএস কালরা জানেন, গলদ তো একটা রয়েছেই। কিন্তু সেই ফাঁদ পর্যন্ত যাতে কাউকে এগোতে না হয়, তার জন্য সকলকে সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, সতর্ক হোন। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝপর্বে এসেও আর্জি এক সন্তানহারা বাবার।

সূত্র :দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন ::

Back to top button