কেন্দ্রের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকা চেয়েছি! জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

সংক্ষিপ্ত বৈঠকেও যে তিনি রাজ্যের হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করতে ভোলেননি সেটা এদিন দিঘাতে বসেই জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন কলাইকুণ্ডায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যশের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষেই মুখ্যমন্ত্রী চলে আসেন দিঘায়। সেখানে জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট দিয়ে এসেছি। তবে আমাকে দিঘায় আসতে হত, তাই বৈঠকে থাকতে পারিনি। উনি আমাকে বৈঠকে ডেকেছিলেন। তাই ওঁর সঙ্গে দেখা করে এসেছি। জানিয়ে এসেছি, দিঘায় আসতে হবে তাই বৈঠকে থাকতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ চেয়েছি। পাবো কি না জানি না তবে ওঁকে বলে এসেছি।’
যশ বাংলায় সরাসরি আঘাত না করলেও বাংলার বুকে তার ক্ষতচিহ্ন দিয়ে গিয়েছে। রাজ্যের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দক্ষিন ২৪ পরগনা। এদিন দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার সেই সব ক্ষয়ক্ষতি প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছ থেকে শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকেরা তাঁকে জানান যে জেলার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হল খেজুরি-২, নন্দীগ্রাম-১, কাঁথি-১, কাঁথি-২, কাঁথি-৩, রামনগর-১ ও রামনগর-২ ব্লকের গ্রামীণ এলাকাগুলি।
উপকূলের অসংখ্য গ্রাম যে কার্যত অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গিয়েছে সাগরের জলোচ্ছ্বাসে সেকথাও জানান তিনি। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দিঘার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের ফের সৈকতনগরীকে সাজিয়ে তোলার আশ্বাস দেন। জানান, দ্রুত দিঘার সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু করে দেবে রাজ্য সরকার। ফের আগের মতোই দিঘাকে সাজিয়ে তোলা হবে। আর এই বিষয়ে মুখ্যমন্তড়ী বিশেষ দায়িত্ব দেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি তাঁকে দিঘা উন্নয়ন পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান পদে অভিষিক্ত করেন।
আর এই জায়গাতেই প্রশ্ন উঠেছে, দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদ কী ভাগ হয়ে যাচ্ছে? নাকি এই পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে জ্যোতির্ময় করকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে? যদিও এই দুটি প্রশ্নের মধ্যে কোনওটিরই উত্তর এদিন মেলেনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত দিঘাকে ফের সাজিয়ে তোলার দায়িত্ব মুখ্যসচিবকেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
যশের দরুন তছনছ হয়ে যাওয়া দিঘার মেরিন ড্রাইভ পুনর্গঠনে তাঁকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনেরও পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে উপকূল এলাকা পুনর্গঠন নিয়ে নতুন অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।
সেই কমিটি আবার মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই কাজ করবে। ঝাউবন সংরক্ষণের জন্যও এদিন মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন। উপকূলের গ্রামীণ এলাকাগুলিতে সাগরের জলোচ্ছ্বাসের জেরে ডিপ টিউবওয়েলে নোনাজল ঢুকেছে। ফলে সেখানকার মানুষজন পানীয় জল পাচ্ছেন না। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে টিউবওয়েল বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব শেষে জানিয়েছেন, দিঘা সৈকত উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে এদিন তিনি ১০ হাজার কোটি টাকা এবং উপকূল উন্নয়নের জন্য আরও ১০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানিয়েছেন। তবে সেই টাকা পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্র :এই মুহুর্তে



