ইয়াস বিধ্বস্ত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নবান্নে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল

ইয়াস প্রভাবিত বঙ্গ সফর শেষ করে এদিনই দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে ৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের। তার আগে অবশ্য এদিন দুপুরে তাঁরা নবান্নে এসে রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। সেখানেই ইয়াস কবলিত বাংলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে তাঁরা হাতে পাবেন ও সেই সম্পর্কে আলোচনাও হবে।
তবে সেই বৈঠকের আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল এটা মেনে নিয়েছেন যে ইয়াসের জেরে বাংলায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। এরপরেই রয়েছে দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার ঘোড়ামারা দ্বীপ ও মৌসুনি দ্বীপ। গত সোমবার কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল দুই ভাগে ভাগ হয়ে দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার ইয়াস কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। গতকাল তাঁরাই ঘুরে দেখেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা। দুই জেলাতেই তাঁরা কথা বললেন স্থানীয়দের সঙ্গে। শুনেছেন তাঁদের আকুল আর্তিও। এমনকি তাঁরা সাক্ষী থেকেছেন বিক্ষোভেরও।
কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের তরফে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইয়াসের দরুন বাংলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। এই জেলার দুর্গতরা এখনও ত্রাণ শিবিরে আছেন। তাদের বেশিরভাগের মাটির বাড়ি ধূলিসাত্ হয়েছে সাগরের জলোচ্ছ্বাসে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের কাছে তাঁরা সমুদ্র বাঁধ তৈরির দাবিও জানান।
বলেন, ‘আমাদের থাকার জন্যে ঘরের ব্যবস্থা করুন। সব ভেসে গিয়েছে, আমরা থাকব কোথায়? যেভাবেই হোক থাকার জন্যে একটা ঘর চাই।’ এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান এস কে সাহি জানান, ‘অনেকেই চোখের জল ফেলেছেন। আমরা কয়েকজনের সঙ্গে কথাও বলেছি। দু’দিনে বেশি জায়গা দেখা সম্ভব নয়। তবে সোমবার আর মঙ্গলবার এই দু’দিনে যা দেখলাম তাতে আমাদের মনে হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরেচ জেলাই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়।
আজ রাজ্যের সঙ্গে বৈঠক আছে। রাজ্য সরকার ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দেবেন সেখানেই। তারপরে কলকাতার কয়েকটি জায়গা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার সেখানে যাওয়া হবে।’
উল্লেখ্য এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইয়াসের জেরে বাংলায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এদিন নবান্নে রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের যে বৈঠক থাকছে সেখানেই কার্যত আঁচ মিলবে কেন্দ্র ঠিক কতটাকা সাহায্য করেত পারে। কার্যত এদিনের বৈঠকের ওপরই ভিত্তি করে রিপোর্ট জমা পড়বে কেন্দ্রের কাছে।
ইয়াস আসার আগেই কেন্দ্রের তরফে বাংলার জন্য ৪০০ কোটি টাকা ধার্য করে রেখেছে কেন্দ্র সরকার। যদিও মুখ্যমন্তড়ী তা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল দিল্লি ফিরে গিয়ে যে রিপোর্ট জমা দেবেন সেই রিপোর্টের জেরে বাংলা বাড়তি কিছু টাকা পায় কিনা।
সুত্র : এই মুহুর্তে



