করোনায় মৃত্যু ৪০০ কর্মীর, কেন্দ্রের কাছে ১০ লক্ষ ভ্যাকসিনের আবেদন কোল ইন্ডিয়ার

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঁচ পড়েছে কয়লাখনিতেও। হু হু করে সংক্রামিত হচ্ছেন খনিকর্মী ও তাঁদের পরিবার। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। আর এতকিছুর পরেও কেন্দ্র উদাসীন। দুর্যোগ কাটাতে উপায় ভ্যাকসিনেশন। যাও কিনা জোরকদমে এগোচ্ছে না। এমনই একগুচ্ছ দাবিদাওয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখল কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড।
বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা উত্পাদনকারী সংস্থার আর্জি, অবিলম্বে টিকাকরণের হার বাড়াতে হবে। প্রায় ২ লক্ষ ৫৯ হাজার কর্মী আপাতত সংস্থায় কর্মরত। এ ছাড়া তাঁদের পরিবার-পরিজনেরাও রয়েছেন। সবার সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ১০ লক্ষ ডোজ টিকা পাঠানো হোক। কোল ইন্ডিয়া সূত্রে এমনটাই বলা হয়েছে। সংস্থার দাবি, ইতিমধ্যে মাত্র ৬৪ হাজার কর্মী টিকা পেয়েছেন।
বাড়তে থাকা সংক্রমণের আবহে এই পরিসংখ্যান রীতিমতো আশঙ্কার। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই তাদের উপর চাপ বাড়িয়েছে একাধিক কর্মচারী সংগঠন। তাদের মধ্যে অন্যতম ‘অখিল ভারতীয় খাদান মজদুর সংঘ’। সংগঠনের মুখপাত্র সুধীর ঘুর্দে বলেন, ‘কোল ইন্ডিয়ার দায়িত্ব হচ্ছে গণটিকাকরণ চালু করা। যাতে করে সমস্ত কর্মী ও তাঁদের নিকট আত্মীয়েরা ভ্যাকসিন পান।
এতে কিছুটা হলেও দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব।’ উল্লেখ্য, কোভিডের ফার্স্ট ওয়েভের সময় থেকেই খাদানকর্মীরা সামনে থেকে দাঁড়িয়ে কাজ করেছেন। লকডাউনের মধ্যেও দেশজুড়ে কয়লা উত্তোলন চালু থেকেছে। সিফট ভাগ করে খনিকর্মীরা দিনের পর দিন কয়লা তুলেছেন। যার জেরে বিদ্যুত্কেন্দ্রগুলি নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দিয়ে গেছে। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই এই ছবি পালটে যায়।
কোল ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের মতে, গত বছর সংক্রমণ থাকলেও এবার তার আঁচ আরও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই কর্মীদের অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত মারা গেছেন ৪০০ জন। সংক্রামিত ৬ হাজার। আর এই কর্মী ঘাটতির জেরে কাজ চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব। সংস্থার দাবি, শুধু সরকারের দিকে না তাকিয়ে তাঁরা নিজেরাও একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।
চুক্তিভিত্তিক চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে অক্সিজেন সিলিন্ডারের জোগান। সবই করা হয়েছে। তাঁদের নিজস্ব চিকিত্সাকেন্দ্রে এখনও ১ হাজার আক্রান্ত কর্মী ভর্তি রয়েছেন। কয়লা উত্তোলনের সময় মানা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধিও। বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরে কাজ করছেন কর্মীরা। খাদানের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামও নিয়মিত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। তবু সংক্রমণ এড়ানো যাচ্ছে না। সাউথ ইস্টার্ন কোলফিল্ডস, যা কোল ইন্ডিয়ার অন্যতম উত্পাদনশীল ইউনিটও বটে, সেখানে কোভিডের আঁচ জোরালোভাবে পড়েছে। তাই উপায় না দেখেই ভ্যাকসিন চেয়ে তাঁদের কেন্দ্রের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
সুত্র : দ্য ওয়াল



